জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি বা মোয়াব) নামের এই প্রলয়ঙ্করী বোমা ব্যবহার করা হলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এক অভূতপূর্ব রূপ নেবে। তবে ট্রাম্পের নির্ধারিত সামরিক উদ্দেশ্য পূরণ করা বা যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে এই বোমা কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় সংশয় প্রকাশ করেছেন একাধিক সামরিক কর্মকর্তা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে বোমাবর্ষণ চললেও কূটনৈতিক কোনো সমঝোতার আলামত দেখা যাচ্ছে না। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কাদের হাতে থাকবে তা নির্ধারিত হবে। এমন সময়ে মার্কিন জনগণের কাছে চরম অপ্রিয় এই সংঘাত শেষ করতে ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টারাও যুদ্ধের একটি ‘প্রতীকী সমাপ্তি’ তুলে ধরার মতো রাজনৈতিক পথ খুঁজছেন।
সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সেন্টকমের (যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড) দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকা থেকে সেনাপ্রত্যাহারের আগে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন শক্তির উপস্থিতি জানান দিতে একাধিক নতুন হামলার পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। সেখানে ইরানের মূল জ্বালানি অবকাঠামোর পাশাপাশি ‘মোয়াব’ বোমার ব্যবহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ হামলার মাধ্যমে জয় দাবি করে দ্রুত সেনা ফিরিয়ে আনার ছক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্য একটি সূত্র জানায়, ইরানের পিকঅ্যাক্স পর্বতসহ অন্যান্য পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জন্য পেন্টাগনের নথিতে স্পষ্টভাবে ‘মোয়াব’ বোমার কথা বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ধারণা, পিকঅ্যাক্স পর্বতের গভীরে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বিভিন্ন অনুষঙ্গ মজুত করে রেখেছে। ইরান যাতে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে আসছেন ট্রাম্প।
তবে ভূগর্ভস্থ গভীরের লক্ষ্যবস্তুতে এই বোমার কার্যকারিতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। জিপিএস-পরিচালিত ২১,৬০০ পাউন্ড ওজনের এই বোমা প্রায় নয়টি সিটি ব্লকের সমান এলাকা ধূলিসাৎ করে দিতে পারলেও, পিকঅ্যাক্স পর্বতের কঠিন গ্রানাইট শিলার স্তর ভেদ করে ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করার ক্ষমতা এর নেই।
পেন্টাগনের সামরিক আলোচনার সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মোয়াব মূলত বিশাল এলাকা ধ্বংস করার জন্য একটি মনস্তাত্ত্বিক অস্ত্র, কিন্তু গভীর ভূগর্ভে আঘাত হানার মতো সক্ষমতা এর নেই।’ তা ছাড়া এই বোমার প্রকাণ্ড ধ্বংসক্ষমতার কারণে জনবহুল এলাকা বা বেসামরিক কাঠামোর কাছে এটি ব্যবহার করা হলে ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকি তৈরি হবে।
তবুও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী নতিস্বীকার না করায় ট্রাম্প এটিকে একটি মনস্তাত্ত্বিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। মূল লক্ষ্য অর্জন না হলেও মার্কিন জনগণকে একটি ‘প্রতীকী জয়’ বা সংঘাত থেকে সম্মানজনক রাজনৈতিক পথ দেখাতেই এই পরিকল্পনার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, স্পর্শকাতর সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করেন না। তবে তিনি বলেন, ‘ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র না পায়, তা নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব পথ খোলা রাখছেন।’ পেন্টাগনের এক মুখপাত্র জানান, রাষ্ট্রপতির নির্দেশ বাস্তবায়ন ও সাফল্য নিশ্চিত করতে তারা বিভিন্ন অপারেশনাল ছক তৈরি করে থাকেন।
২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময় প্রস্তুত করা এই ‘মোয়াব’ বোমা ২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আফগানিস্তানে আইএসের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ লক্ষ্য করে প্রথমবার ব্যবহার করা হয়েছিল।
 weapon at Eglin Air Force Base, Florida-768x402.webp)




