ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের তৈরি স্টারলিংকের সামরিক সংস্করণ ‘স্টারশিল্ড’ ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি এবং পশ্চিমা গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার সুবিধা বন্ধ হওয়ার কারণে যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা আরও বেশি চাপে পড়েছে।
বুধবার রাতের শেষভাগে কিয়েভের তিনটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং খারকিভের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়ার চালানো ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং ২৫ জন আহত হন।
একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, ‘ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতির কারণে শেষ হামলায় চালানো প্রায় সব ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই ঠেকানো সম্ভব হয়নি।’
পেট্রিঅট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনের পুরোপুরি শেষ হয়ে যাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এসব অস্ত্র সংগ্রহের জটিলতা নিয়ে একাধিকবার কথা বলেছেন।
তবে এবার এই সংকট এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রকাশ্য বিরোধ চলছে। মস্কোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের নতুন তেল চুক্তির পর জেলেনস্কি সম্প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনি ওয়াশিংটন কর্তৃক ‘প্রতারিত’ বোধ করছেন।
এদিকে, ইউক্রেনও রাশিয়ার একটি তেল শোধনাগারে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। জ্বালানি কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে হামলা না চালানোর যে স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি ছিল, তা রাশিয়া মানছে না দাবি করে কিয়েভ এই পদক্ষেপ নেয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে আসা সত্ত্বেও কিয়েভের এই হামলা ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
জেলেনস্কি অভিযোগ করে বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাশিয়া থেকে আসা ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সংক্রান্ত নিয়মিত পশ্চিমা গোয়েন্দা তথ্য ইউক্রেনকে দেয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি স্টারলিংক যোগাযোগ টার্মিনাল ব্যবহারের ওপরও সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এই দুটি সুবিধাই ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গত কয়েক মাস ধরে জেলেনস্কি বারবার বলছেন, ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের চরম সংকট চলছে। ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম অল্প কয়েকটি প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মধ্যে এটি অন্যতম। তবে এই ইন্টারসেপ্টরগুলো শুধু ব্যয়বহুলই নয়, বিশ্বজুড়ে এর সরবরাহেও টান পড়েছে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে অন্যান্য দেশও নিজেদের মজুত দ্রুত খালি করে ফেলছে।
গত জুলাইয়ে ওয়াশিংটন সফরকালে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনে নিজ উদ্যোগে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর নির্মাণের লাইসেন্স পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন বলে জানা গেছে।





