যুক্তরাষ্ট্রে জি-২০ সম্মেলনে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের আশা জেলেনস্কির

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি
বিদেশে এখন
0

আসন্ন জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে এ বৈঠকের বিষয়ে এখনো ওয়াশিংটন কিংবা মস্কো কোনো পক্ষই নিশ্চয়তা দেয়নি বলে আজ শনিবার জানিয়েছেন তিনি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলোর জোট জি-২০-এর পরবর্তী সম্মেলন আগামী ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইউক্রেন এই জোটের সদস্য না হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া এর সদস্য। আজ হোয়াটসঅ্যাপে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলেনস্কি বলেন, ‘জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের সময় যুক্তরাষ্ট্রে বৈঠকটি হতে পারে। তবে এখনো রাশিয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। এছাড়া ইউরোপের কোনো দেশেও এটি হতে পারে।’

জেলেনস্কি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশেও এই আলোচনা আয়োজিত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই সংযুক্ত আরব আমিরাত বা সৌদি আরবের নাম উল্লেখ করে আসছে। তিনি জানান, গতকাল শুক্রবার ইউক্রেনের মধ্যস্থতাকারীরা মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মস্কোর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হলেও রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার জন্য ইউরোপের নিজস্ব একটি প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন।

চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এ যুদ্ধে মস্কোর ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উল্টো রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ায় ট্রাম্পের সমালোচনা করেন জেলেনস্কি।

এদিকে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্টারলিংকের গতি সীমিত করে দেয়ায় ইউক্রেনীয় বাহিনী রুশ ড্রোন প্রতিহতকারী ড্রোন ব্যবহার করতে পারছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ‘গতির সীমাবদ্ধতার কারণে আজ আমাদের ইন্টারসেপ্টর ড্রোনগুলো কাজ করছে না।’

জেলেনস্কি জানান, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ইন্টারনেটের গতি কমেছে বলে ইউক্রেনকে জানানো হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূখণ্ডে স্টারলিংক পরীক্ষা করে এমন কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি।

তবে ধনকুবের ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের তৈরি সামরিক প্রযুক্তি ‘স্টারশিল্ড’ ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হওয়ার বিষয়ে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প। গতকাল ট্রাম্প জানান, স্টারলিংকের গতি কমার ফলে ইউক্রেনের সামরিক অভিযান ব্যাহত হওয়ার ক্ষেত্রে তিনি বা ইলন মাস্ক কেউই দায়ী নন। স্টারলিংকের সেবা বিঘ্নিত হওয়ায় ইউক্রেনের সেনা সদরদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে এবং ইন্টারনেটের গতি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।

এএম