ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে যে আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া-প্যাসিফিক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের মধ্যে একটি বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। ১৯৪৫ সালে সোভিয়েত, মার্কিন ও ব্রিটিশ নেতারা যেভাবে ইয়াল্টা সম্মেলনে তৎকালীন বিশ্বকে নিজেদের প্রভাববলয়ে ভাগ করে নিয়েছিলেন, কিয়েভ তেমন কোনো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি চায় না বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, এই তিন পরাশক্তি বৈঠকে কী বিষয়ে আলোচনা করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
মস্কো দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একটি স্থায়ী বোঝাপড়ায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে, যেখানে রাশিয়ার সীমান্তের কাছে ন্যাটোর সম্প্রসারণ বন্ধের দাবিটি অন্যতম। ইউক্রেনে সামরিক অভিযানকেও মস্কো ন্যাটোর হুমকির জবাব হিসেবে তুলে ধরে আসছে, যা কিয়েভ ও পশ্চিমা বিশ্ব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। জেলেনস্কি বলেন, এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠকটি অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে রাশিয়া সবচেয়ে বেশি করে চাইছে। তাই মস্কোকে যেন কোনোভাবেই বাড়তি বড় কূটনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেয়া না হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী এই সংঘাত নিরসনে আগামী মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মার্কিন দূতদের একটি বৈঠকের কথা রয়েছে। এখনও সেই বৈঠকের সুনির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। তবে পরাশক্তি তিন দেশের নেতাদের সম্ভাব্য বৈঠকের আগেই আমিরাতের আলোচনা সেরে ফেলার পক্ষে মত দিয়েছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট।
অন্যদিকে ইউক্রেনে আকাশপথে রুশ হামলা প্রতিহত করতে ওয়াশিংটনের কাছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি জানান, ইউক্রেন প্রতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাত্র ১২টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সহায়তা পাচ্ছে, অথচ তাদের প্রতি মাসে প্রায় ১৫০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে হচ্ছে। এছাড়া আসন্ন শীতের আগে দেশের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধে একটি যৌথ সমঝোতা এবং শস্য রপ্তানি স্বাভাবিক রাখতে সামুদ্রিক যুদ্ধবিরতি চাইছে কিয়েভ। তবে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে লড়াইয়ে এমন আংশিক বিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া।





