জনমত জরিপে এগিয়ে থেকেও রান অফ ভোটে লুলা দা সিলভার কাছে হেরে যান ফ্লাবিও বোলসোনারো। ৪৪ লাখ ভোটে পিছিয়ে থাকার পরও পরাজয় স্বীকার না করে নির্বাচন বাতিলের আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। নানা অনিয়মসহ নির্বাচনে কারচুপি এবং সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপকে দায়ী করেন বোলসোনারো।
নির্বাচনের পরই অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্তে বোলসোনারোর পাসপোর্ট পুলিশের কাছে জমা দিতে ২৪ ঘণ্টার সময় বেধে দেন ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট। তবে সেই নির্দেশ অমান্য করায় বাতিল হয়ে যায় তার পাসপোর্ট। তখনই ধারণা করা হচ্ছিল শিগগিরই ব্রাজিল ছাড়তে পারেন বোলসোনারো।
পাসপোর্ট বাতিল ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই সপরিবারে ব্রাজিল ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন ডানপন্থী এই নেতা। বিভিন্ন সূত্রের খবর বলছে বোলসোনারো ফ্লোরিডায় তার ছোট ভাইয়ের কাছে আছেন। যদিও তিনি কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন তা স্পষ্ট নয়। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আর্জেন্টিনা থেকে ব্যক্তিগত বিমানে গেছেন বলে খবর বের হলেও, আর্জেন্টিনা কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছে।
আরও পড়ুন:
বলসোনারো ও তার পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেয়া এবং দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেয়ার কথা জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। বোলসোনারোর যুক্তরাষ্ট্রে আসাকে স্বাগত জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি নিজেই অনুমোদন করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘বোলসোনারো ভালো মানুষ। তবে ব্রাজিলের নির্বাচনটা খুব অদ্ভুত ছিলো। সত্যি বলতে কাছে তা ভয়াবহ লেগেছে। ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে এবারের এই নির্বাচন। এখন দেখা যাক তাদের অর্থনীতির কি অবস্থা হয়।’
তবে বোলসোনারোর এভাবে দেশ ছেড়ে পালানোর ঘটনাকে লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্রাজিলের বিভেদকে আরও গভীর সংকটে ফেলবে বলে শঙ্কা তার।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা বলেন, ‘ব্রাজিল ত্যাগ করার বিষয়টি আসলেই লজ্জাজনক। পাসপোর্ট জমা না দিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে এভাবে পালানোর কোনো মানে হয় না। দুঃখজনক হলেও, বোলসোনারো পরিবার এমনই। ব্রাজিল তাদের দ্বিতীয় মাতৃভূমি। তাদের প্রথম মাতৃভূমি হলো যুক্তরাষ্ট্র।’
ব্রাজিল ত্যাগ করার বিষয়টি আসলেই লজ্জাজনক। পাসপোর্ট জমা না দিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে এভাবে পালানোর কোনো মানে হয় না। দুঃখজনক হলেও, বোলসোনারো পরিবার এমনই। ব্রাজিল তাদের দ্বিতীয় মাতৃভূমি। তাদের প্রথম মাতৃভূমি হলো যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে, বোলসোনারোর দেশত্যাগের ঘটনা নিয়ে ব্রাজিলিয়ানদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তাদের কেউ কেউ এটিকে কাপুরুষের মতো কাজ বলছেন। আবার অনেকের মতে, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।
বোলসোনারোর বিরুদ্ধে একটি প্রতারণামূলক প্রকল্পের মাধ্যমে ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, একাধিক দুর্নীতি ও আর্থিক কেলেঙ্কারির মামলাও বিচারাধীন ছিল। যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফ্লাবিও বোলসোনারো।
এর আগে তার বাবা সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো ব্রাজিলে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২২ সালের নির্বাচনে হারার পর তার বাবাও যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন।





