না ফেরার দেশে চলে গেলেন বিনোদন জগতের একজন কিংবদন্তি-অসাধারণ ব্যক্তিত্ব স্যার প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট। গম্ভীর কণ্ঠস্বর, অসাধারণ অভিনয় দক্ষতা, থিয়েটার ও পপ-কালচারে অনন্য বহুমুখিতা আর মানবিক ব্যক্তিত্বের কারণে ষাট বছরেরও বেশি সময় ধরে দর্শকদের কাছে সমাদৃত এই প্রখ্যাত ব্রিটিশ অভিনেতা।
তার সঙ্গে কাজ করা একজন বলেন, ‘আমরা রয়্যাল শেক্সপিয়ার কোম্পানিতে একসঙ্গে কাজ করেছি। তিনি ‘হ্যামলেট’-এ একটি চমৎকার ভূতের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। আরও বেশ কয়েকটি চরিত্রেও অভিনয় করেছেন। তাই তিনি একজন অসাধারণ অভিনেতা। তার মৃত্যুর খবর শুনে খুব দুঃখ পেলাম। তিনি শান্তিতে থাকুন।’
স্টুয়ার্টের এক্স অ্যাকাউন্টে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি আলঝেইমার রোগ ও লিউই বডি ডিমেনশিয়ায় ভুগছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজ বাসভবনে মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। পরিবার ও বন্ধুদের সান্নিধ্যে, সংগীত, প্রার্থনা, কান্না ও হাসির মধ্য দিয়ে জীবনের শেষ সময় কাটিয়েছেন তিনি। মৃত্যুর সময় তার স্ত্রী সানি ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তার পাশে ছিলেন। ।
দীর্ঘ ষাট বছরেরও অভিনয় জীবনে তিনি শেকসপিয়রীয় মঞ্চ থেকে শুরু করে আধুনিক সায়েন্স ফিকশন ও সুপারহিরো ফ্র্যাঞ্চাইজি—সবখানেই সমান রাজত্ব করেছেন। পপ-কালচারের দুটি অত্যন্ত জনপ্রিয় চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে অমর হয়ে আছেন। যার একটি- স্টার ট্রেক: দ্য নেক্সট জেনারেশন-এ বুদ্ধিদীপ্ত ও নীতিবান নেতা ক্যাপ্টেন জঁ-লুক পিকার্ড এবং অন্যটি এক্স-মেন চলচ্চিত্র সিরিজে মিউট্যান্টদের পথপ্রদর্শক প্রফেসর চার্লস জেভিয়ার।
রয়্যাল শেকসপিয়র কোম্পানির সদস্য হিসেবে তিনি ম্যাকবেথ, কিং লিয়ার ও প্রসপেরো-র মতো ক্লাসিক্যাল চরিত্রেও মঞ্চ কাঁপিয়েছেন। পরবর্তীতে সায়েন্স ফিকশন চলচ্চিত্রে অভিনয় করার সময়ও তিনি সেই থিয়েটারের গাম্ভীর্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক গভীরতা ধরে রাখেন।
তার রাজকীয় ও গম্ভীর কণ্ঠস্বরের কারণে তিনি অসংখ্য অ্যানিমেশন ফিল্ম, ডকুমেন্টারি ও ভিডিও গেমে কণ্ঠ দিয়েছেন, যা দর্শক-শ্রোতাদের দারুণভাবে মুগ্ধ করত। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দুটি বিখ্যাত লরেন্স অলিভিয়ে পুরস্কার এবং একটি গ্র্যামি পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া বহুবার মনোনীত হন টনি, গোল্ডেন গ্লোব এবং এমি অ্যাওয়ার্ডের মতো শীর্ষস্থানীয় পুরস্কারের জন্য। ২০১০ সালে যুক্তরাজ্যের তৎকালীন রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাকে সম্মানসূচক 'নাইট' উপাধিতে ভূষিত করেন।
পর্দার বাইরেও তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত নায়ক। শৈশবের কঠিন পারিবারিক অভিজ্ঞতার কারণে তিনি সারাজীবন পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতার পক্ষে জোরালো ভূমিকা পালন করেছেন। তার চলে যাওয়া বিশ্ব চলচ্চিত্রে এক অপূরণীয় ক্ষতি। তবে কাজের মধ্য দিয়ে তিনি কোটি ভক্তের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।




 or Benjamin Netanyahu (right) are projected to win enough seats for a majority-320x167.webp)
