একটি সমঝোতা চুক্তির ভিত্তিতে ফিলিপিন্সের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল মার্কোস ও দুতের্তে দুই পরিবার। একটি জোট গঠন করে ক্ষমতা ভাগাভাগির করে সরকার পরিচালনা করবে তারা। চুক্তি অনুযায়ী দুই পরিবার নির্বাচনে লড়বে এবং একজন প্রেসিডেন্ট এবং অন্যজন হবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট।
২০২২ সালের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পায় দুই পরিবারের সারা দুতের্তে এবং ফার্দিনান্দ মার্কোস। ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন দুতের্তে পরিবারে মেয়ে সারা দুতের্তে। এর আগে তিনি দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় দাভাওয়ের শহরের মেয়র ছিলেন। তবে সরকার গঠনের পরই দুই পরিবারের মধ্যে দেখা দেয় ভাঙন। ফিলিপিন্সের রাজনীতিতে স্পষ্ট হয়ে উঠে দুটি ক্ষমতালোভী ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিবারের দ্বন্দ্ব।
আরও পড়ুন
এরপরই সারা দুতের্তের বিরুদ্ধে সরকারি তহবিলের অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোসসহ ফার্স্ট লেডি ও সাবেক স্পিকারকে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠে। সব অস্বীকার করে সারা দুতের্তে বলেন, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত।
এসব অভিযোগে রাজনৈতিক কর্মী, ধর্মীয় গোষ্ঠী ও আইনজীবীরা ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতের্তেকে অভিশংসনের প্রস্তাব দেয়। নিম্নকক্ষে প্রস্তাবটি ৩১৮ জন আইনপ্রণেতার মধ্যে ২৫৫ জনের ভোটে পাস হয়। বিপক্ষে ভোট দেন মাত্র ২৫ জন এবং ভোটদানে বিরত ছিলেন ৯ জন।
এবার তা চূড়ান্ত করার জন্য পাঠানো হচ্ছে উচ্চকক্ষ সিনেটে। সেখানে পাস হলে ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ হারাবেন সারা দুতের্তে। শুধু তাই নয় ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও লড়তে পারবেন না তিনি। এমনকি আজীবনের জন্য সরকারি কোনো পদে থাকার যোগ্যতাও হারাবেন সারা। এর মধ্য দিয়ে ফিলিপিন্সের রাজনীতিতে দুতের্তে পরিবারের ক্ষমতার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
এর আগে ২০২৫ সালে একই অভিযোগে সারা দুতের্তেকে অভিশংসন করা হয়েছিল। তবে অভিশংসন প্রক্রিয়ার ত্রুটি উল্লেখ করে অভিযোগটি বাতিল করে দেয় দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। দ্বিতীয় দফায় অভিশংসন সফল করার দাবিতে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে আন্দোলনে নামে দেশটির জনগণ।
এদিকে, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে কয়েক হাজার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফেঁসে যাচ্ছেন সারা দুতের্তের বাবা ফিলিপিন্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছে। শুধু তাই নয় এই অভিযানের নেতৃত্ব দেয়া সাবেক পুলিশ প্রধান দেলা রোসাকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।





