জেনজি বিক্ষোভে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী ও কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের চেয়ারম্যান কে পি শর্মা অলি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে গত সেপ্টেম্বরে দেশটির হাল ধরেন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। ঘোষণা দেন ৬ মাসের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের।
চলতি বছরের ৫ মার্চ ভোটের তারিখও ঘোষণা করে নেপালের নির্বাচন কমিশন। সময়মতো সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা বড় চ্যালেঞ্জ হবে তা স্বীকার করে দিনে ১৮ ঘণ্টা কাজ করে যাবেন বলে আশ্বাস দেন কার্কি।
নির্বাচনি আমেজে ইতোমধ্যেই চাঙা নেপালের রাজনীতির মাঠ। কে পি শর্মা দল কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল আত্মগোপনে থাকায় দৃশ্যপটে ফিরেছে প্রাচীন বৃহত্তম রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেস পার্টি।
তবে ক্ষমতার লড়াইয়ে তরুণ প্রজন্মের দুই নেতার কাছে হেরে গেলেন দলটির প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা। সাধারণ সম্পাদক ও তরুণ নেতা গগন থাপা এবং মুখপাত্র বিশ্বপ্রকাশ শর্মা সভাপতির পদ থেকে দেউবাকে ইতোমধ্যেই সরিয়ে দিয়েছেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে ৪৯ বছর বয়সী গগন থাপাকে।
এতে ভোটের আগে ভেঙে পড়লো দলটি। এর জের ধরে শুক্রবার কাঠমান্ডুর নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের বাইরে মুখোমুখি অবস্থান নেয় শের বাহাদুর দেউবা ও থাপা গ্রুপের সদস্যরা। উভয় গ্রুপই আলাদাভাবে নির্বাচন করার জন্য নির্বাচন কমিশনে প্রয়োজনীয় নথিও জমা দিয়েছে। তবে তরুণ প্রজন্মের সমর্থিত নেতা থাপা নেতৃত্বাধীন নেপালি কংগ্রেসকে স্বীকৃতি দিল নির্বাচন কমিশন।
আরও পড়ুন:
এরমধ্য দিয়ে নেপালি কংগ্রেস পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি বা এনসিপি এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ওলির নেতৃত্বাধীন সিপিএন'কে সুবিধা দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। ফলে তরুণদের আন্দোলনের উদ্দেশ্যও ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা করা হচ্ছে। নব্বইয়ের দশকে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল নেপালি কংগ্রেস পার্টির।
এদিকে পার্লামেন্টের প্রতিনিধি সভার ২৭৫ আসনে ভোটের আয়োজন ঘিরে নির্বাচনি কার্যালয় স্থাপনের কাজও চালছে। ইতোমধ্যে দেড় শতাধিক আসনে নির্বাচনি কার্যালয় স্থাপন শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপালের নির্বাচন কমিশন।
মিছিল, সভা-সমাবেশ আয়োজনের জন্য তারিখ, সময়, রুট এবং স্থান সম্পর্কে পুলিশকে কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে অবহিত করতে হবে রাজনৈতিক দলকে। এছাড়া নির্বাচন কমিশন ঘোষিত আচরণবিধি লঙ্ঘনকারী যে কোনো প্রার্থীকে এক লাখ নেপালি রুপি পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি প্রার্থিতাও বাতিল হতে পারে।





