কারাবন্দি ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি, মেডিকেল বোর্ড গঠন

কারাবন্দী ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি
এশিয়া
বিদেশে এখন
0

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিক্ষোভ ও সাবেক ক্রিকেটারদের দাবির মুখে ইমরান খানকে হাসপাতালে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেহবাজ প্রশাসন, গঠন করা হয়েছে মেডিকেল বোর্ডও। অন্যদিকে চিকিৎসা ও মানবিক কারণ দেখিয়ে সাজা স্থগিত ও জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন ইমরান খানের আইনজীবী।

ক্ষীণ হয়ে আসছে কারাবন্দি ইমরান খানের দৃষ্টিশক্তি। এরই মধ্যে ডান চোখের ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী। এ ঘটনায় চিকিৎসার অবহেলার অভিযোগ শেহবাজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে। তাই রাস্তায় নেমেছেন ভক্ত-সমর্থকরা।

সাবেক এ সতীর্থের এমন পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগ জানিয়েছেন ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস, শহিদ আফ্রিদিসহ দেশটির আরও অনেক সাবেক ক্রিকেটার। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেবে এবং সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খানের সুচিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করবে দাবি জানিয়ে বার্তাও দিয়েছেন তারা।

সাবেক পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি বলেন, ‘চিকিৎসা তার মৌলিক অধিকার। তাই এর ব্যবস্থা করা উচিত। বিলম্ব না করে যথাযথ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে।’

আরও পড়ুন:

অবশেষে চাপের মুখে ইমরান খানকে হাসপাতালে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। এক্স পোস্টে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী জানান, চোখের চিকিৎসার পাশাপাশি ইমরানের যাবতীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। এজন্য গঠন করা হবে মেডিকেল বোর্ডও। স্বাস্থ্যের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কোনো রাজনীতি করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তারিক ফজল চৌধুরী।

পাকিস্তানের সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী বলেন, ‘ইমরান খানকে তার ছেলেদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে হাসপাতালে স্থানান্তর এবং মেডিকেল বোর্ড গঠনেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সরকার মানবিক দিক বিবেচনায় নেয়া ছাড়াও আইনের বিষয়গুলোও অগ্রাধিকার দেয়। আইন অনুযায়ী প্রতিটি বন্দিকে সুযোগ-সুবিধা দেয়া সরকারের দায়িত্ব। স্বাস্থ্যের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কোনও রাজনীতি করা উচিত নয়। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের ভিত্তিহীন প্রচারণা এড়িয়ে চলা উচিত।’

এদিকে, ইমরান খানের স্বাস্থ্যের অবনতির কারণে তোশাখানা দুই মামলায় দেয়া সাজা স্থগিত এবং চিকিৎসা ও মানবিক কারণ দেখিয়ে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেছেন ইমরান খানের আইনজীবী। গেল বছরের ডিসেম্বরে বিশেষ আদালত তোশাখানা-২ মামলায় ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছর করে কারাদণ্ড দেন।

২০২২ সালের এপ্রিলে বিরোধী দলগুলোর অনাস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারান ইমরান খান। পরে দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগে ২০২৩ সালের আগস্টে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। একাধিক মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়ে রাখা হয় রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে। এসব মামলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন ইমরান খান ও তার সমর্থকেরা।

জেআর