পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন: অভিনব প্রচারণায় প্রার্থীরা

প্রতীকী ছবি
এশিয়া
বিদেশে এখন
1

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল ২৯৪ আসনে বিধানসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ১৫২ আসনে ও দ্বিতীয় দফায় ১৪২ আসনে ভোট ২৯ এপ্রিল। ভোটগণনা ৪ মে। সর্বশেষ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল ৮ দফায়।

ভোট যত এগিয়ে আসছে, নির্বাচনি প্রচারণার ক্ষেত্রে নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের মন জয় করতে কেউ সোজা চপের দোকানে ঢুকে চপ ভাজছেন, কেউ অন্যের দাড়ি কামিয়ে দিচ্ছেন, কেউ আবার চোখ বন্ধ করে প্রকাশ্যে হাড়ি ভাঙছেন। আবার কেউ পেল্লাই সাইজের মাছ হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এভাবেই সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে বিকাল-জনসংযোগ সারছেন ডান-বাম প্রার্থীরা।

বীরভূম জেলার দুবরাজপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী নরেশ চন্দ্র বাউরী, নির্বাচনি প্রচারণায় বের হয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জেলার স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী ‘হাঁড়ি ফাটানো’ খেলায় অংশ নেন। এসময় তিনি বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টিকেও (বিজেপি) ঠিক এমনভাবেই পরাজয়ের মুখোমুখি হতে হবে।’

দুবরাজপুর কেন্দ্রেরই বিজেপি প্রার্থী ও বর্তমান বিধায়ক অনুপ কুমার সাহা প্রচারণায় বেরিয়ে নাপিতের ভূমিকায় নামেন। জনসংযোগের সময় এক বৃদ্ধের হাতে থাকা সাবান এবং সেফটি রেজার নিয়ে দাড়ি কামিয়ে দেন। এসময় এ প্রার্থী বলেন, ‘মানুষের হাতে অত সময় কই! সকলে ব্যস্ত। তাদের কাজের মধ্যেই নিজেদের প্রচার করে নিতে হবে।’

আরও পড়ুন:

সল্টলেকের আইএ-ব্লকের মার্কেটে দেখা ভিন্ন চিত্র। হাতে একটি আস্ত বড় কাতলা মাছ নিয়ে দোকানে দোকানে ভোট চাইলেন বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।

বিজেপি প্রার্থীর স্পষ্ট জবাব, তৃণমূল কংগ্রেস মিথ্যে প্রচার চালাচ্ছে যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে নাকি মানুষের মাছ খাওয়া বন্ধ করে দেবে। কিন্তু আমরা বলছি, আমরা মাছ নিয়েই চলব। বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করার কোনো প্রশ্নই নেই। প্রয়োজনে আমরা তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতেও মাছ পাঠিয়ে দেব।’

আরামবাগ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী মিতা বাগ আবার প্রচারে বেরিয়ে তেলেভাজার দোকানে ঢুকে নিজে হাতে চপ তৈরি করেন। অন্যদিকে চপ ভেজে মমতা ব্যানার্জির সরকারকে কটাক্ষ করেন আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল।

তিনি বলেন, ‘চাকরি না পেলে চপ-মুড়ি বিক্রি করতে বলা হচ্ছে যুবকদের। আমিও আজ সেই কাজ করছি, যাতে বোঝা যায় এ মডেল কতটা কার্যকর।’

এএইচ