নেপালের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী গ্রেপ্তার

দীপক খাড়কা
এশিয়া
বিদেশে এখন
0

নেপালের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আজ (রোববার, ২৯ মার্চ) অর্থপাচার তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর উচ্চপর্যায়ের একাধিক গ্রেপ্তারের ধারাবাহিকতায় এটি সর্বশেষ ঘটনা; এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রীও আটক হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ শপথ নেওয়ার দুই দিন পর এ ঘোষণা আসে। ২০২৫ সালের প্রাণঘাতী দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে শাহ’র দল ভূমিধস বিজয় পায়।

কাঠমান্ডু থেকে এএফপি জানায়, শনিবার ভোরে পরিচালিত অভিযানে ওলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখাককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দমনে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, যেখানে অন্তত ৭৬ জন নিহত হয়।

রোববার সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী দীপক খড়কাকে ‘অর্থপাচার সংক্রান্ত মামলায়’ আটক করা হয়েছে বলে জানান কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর মুখপাত্র শিবা কুমার শ্রেষ্ঠ।

বিক্ষোভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রী সুদান গুরুং বলেন, গত বছরের অস্থিরতার সময় তার বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া অর্থের তদন্তের সঙ্গেই খড়কার গ্রেপ্তার জড়িত। সে সময় খড়কার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বাসার ভেতর পাওয়া টাকা বিক্ষোভকারীরা আকাশে ছুড়ে দিচ্ছে।

ওলি ও লেখাক গ্রেপ্তার হয় একটি তদন্ত কমিশনের সুপারিশের পর, যেখানে বলা হয় চারবারের প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা উচিত, কারণ তারা নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি চালানো ঠেকাতে ব্যর্থ হন।

গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারির প্রতিবাদ থেকে এই আন্দোলনের সূচনা হলেও, এর পেছনে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক দুর্দশা নিয়ে জনঅসন্তোষও ছিল। পরদিনই এটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে; সংসদ ও সরকারি দপ্তরে অগ্নিসংযোগ হয় এবং শেষ পর্যন্ত ওলির সরকারের পতন ঘটে।

রোববার রাজধানী কাঠমান্ডুতে আদালতের কাছে ওলির সমর্থকদের ঠেকাতে পুলিশ সড়ক অবরোধ করে। সেখানে ওলি ও লেখাকের শুনানিতে হাজির হওয়ার কথা ছিল। তাদের বিরুদ্ধে এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি এবং দুজনই সহিংসতার দায় অস্বীকার করেছেন।

আরও পড়ুন:

ওলির দল সিপিএন-ইউএমএল এই গ্রেপ্তারকে ‘প্রতিশোধমূলক’ আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুরুং বলেন, ‘এটি কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নয়, বরং ন্যায়বিচারের সূচনা।’

৫ মার্চের নির্বাচনের আগে পুনর্র্নিবাচনের চেষ্টা করা ওলি এএফপিকে বলেন, সহিংসতার জন্য তিনি ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ দায়ী করেন। তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গুলি চালানোর কোনো সরাসরি নির্দেশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে গুলি থামাতে বা নিয়ন্ত্রণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এবং ‘অবহেলার কারণে এমনকি অপ্রাপ্তবয়স্করাও প্রাণ হারিয়েছে।’

পুলিশ জানিয়েছে, ৭৪ বছর বয়সী ওলি হৃদরোগ ও কিডনি সমস্যায় ভুগছেন। তিনি দুটি কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন। গ্রেপ্তারের পর শনিবার তাকে কড়া পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে এএফপি প্রতিবেদকরা দেখেছেন।

৩৫ বছর বয়সী র‌্যাপার থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা বলেন্দ্র শাহ এবং তার দল ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ তরুণ নেতৃত্বভিত্তিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসে। তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকাতেই ওলিকে পরাজিত করেন।

শাহর সরকার ১০০ দফা সংস্কার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে রাজনীতিবিদ ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের তদন্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সূচকে, বিদ্রোহের আগে নেপালের অবস্থান ছিল ১৮০ দেশের মধ্যে ১০৭তম। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নেপালের মাথাপিছু জিডিপি ছিল মাত্র ১,৪৪৭ ডলার এবং দেশটির ৮২ শতাংশ শ্রমশক্তি অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত।

এএইচ