‘ভবানীপুরে পদ্মফুল ফুটবে’ দাবি মোদির; মমতার পাল্টা নিশানা, ‘আগে দিল্লি সামলা’

মমতা বন্দোপাধ্যায় ও নরেন্দ্র মোদি
এশিয়া
বিদেশে এখন
0

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনি প্রচারণায় এসে ফের পাল্টাপাল্টি নিশানা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দেপাধ্যায়ের। আজ (বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল) পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়ায় দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে একটি নির্বাচনি প্রচারে উপস্থিত ছিলেন মোদী।

সেখান থেকেই আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির জয় নিশ্চিত বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। যার অভিমত, ‘মানুষের উচ্ছ্বাস দেখেই এক প্রকার নিশ্চিত যে বিজেপির জয় আসছে এবং নির্মম তৃণমূল সরকারের বিদায় যাওয়ার সময় এসেছে।’

কেবল তাই নয়, এই নির্বাচনে ভবানীপুর আসন থেকে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে মমতা বন্দেপাধ্যায় পরাজিত হবেন বলেও দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

তার অভিমত, ‘পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রাম রাজ্যে পরিবর্তনের পথ দেখিয়েছিল। সেবার নন্দীগ্রামে যে পদ্মফুল (বিজেপির প্রতীক) ফুটেছিল এবার ভবানীপুরেও সেই পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে। শুধু তাই নয়, গোটা রাজ্যে পদ্মফুল ফুটতে চলেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নত বাংলা গঠনের লক্ষ্যে নির্মম তৃণমূল সরকারের বিদায় নেয়াটা আবশ্যক। ভারত আজকে গোটা বিশ্বে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। সেই লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি রাজ্য ভালো কাজ করছে কিন্তু তৃণমূলের নির্মম সরকার পশ্চিমবঙ্গকে নিচের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’

আরও পড়ুন:

অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও মমতা সরকারকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তৃণমূল সরকারের শাসনামলে কেবলমাত্র অনুপ্রবেশকারীদের কারখানা, অপরাধীদের দৌরাত্ম ফুলেফেঁপে উঠেছে, গবাদি পশু পাচার, ভুয়া নথি তৈরির মতো শিল্পের উন্নয়ন ঘটেছে।’

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ, তৃণমূল তাদের নিজেদের ভোটব্যাঙ্ককে খুশি করতে ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ দেয়ার কাজে নেমে পড়েছে। আদালত বারবার এটিকে খারিজ করে দিয়েছে কিন্তু তোষণের অসুখটা এতটাই খারাপ যে, এরা আদালত কে মানে না, সংবিধানকে মানে না। কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় আসলে সংবিধান মেনে কাজ করবে। যার যেটা ইচ্ছা, সেই ইচ্ছা পূরণ করা হবে। এটাই মোদির গ্যারান্টি।

এমনকি মাছ উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গ স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় বলেও দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:

তার দাবি, ‘বাংলায় মাছের এত চাহিদা রয়েছে কিন্তু মাছ উৎপাদনে এ রাজ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। আজকের দিনেও নিজেদের প্রয়োজনে বাংলাকে অন্য রাজ্য থেকে মাছ আমদানি করতে হয়।’

প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পরে পাল্টা নিশানা করতে দেখা যায় তৃণমূল প্রধান মমতা বন্দেপাধ্যায়কে।

এদিন সন্ধ্যায় কলকাতার কাছেই বাগুইহাটিতে একটি নির্বাচনি প্রচারণা থেকে মমতা বলেন, ‘উনি বলেছেন, ভবানীপুরে আমি নাকি হারবো। আমি বলবো, আগে দিল্লি সামলা। এর পরের নির্বাচনে তোরা গুজরাটে হেরে যাবি। গোটা দেশে তোরা হারবি। সবাই বলছে আগস্টের পর থেকে দিল্লির সরকারের পতন ঘনিয়ে আসছে।’

মাছ উৎপাদন নিয়ে মমতার পাল্টা প্রশ্ন, ‘আপনারা বাঙ্গালীদের মাছ ভাত খেতে দিচ্ছেন না। মাংস এতই যদি খারাপ হয়, তবে আপনি ওমানে গরুর মাংস দেয়ার চুক্তি করছেন কেন? সৌদি আরবে গিয়ে যখন নবাবদের গলা জড়িয়ে ধরেন, তখন একবারও ভাবেন না ওটা হিন্দু না মুসলিম। যখন দুবাইয়ে গিয়ে একসঙ্গে বসে খান, তখন কি একবারও দেখেছেন ও হিন্দু না মুসলিম। যত দোষ নন্দ ঘোষ।’

আরও পড়ুন:

মমতার অভিমত, ‘আজকে ওরা বলেছেন আমরা নাকি মাছ উৎপাদন করি না। বিহার অনেক মাছ উৎপাদন করে, বাইরের রাজ্যে পাঠায়। আমি বলবো বিহার তো মাছই খায় না, আপনারা খেতে দেন না। তাহলে কি করবে? ঘরে রেখে পচাবে? কে কি খাবে সেটা তার নিজের পছন্দ।’

অনুপ্রবেশ ইস্যুতে মোদি সরকারকে পাল্টা নিশানা করে মমতা বলেন, ‘আমি নাকি অনুপ্রবেশের কারখানা খুলেছি। তাই যদি করে থাকি তাহলে আপনার বিএসএফ কি করছিল? সীমান্তের রক্ষার দায়িত্ব আমাদের হাতে নেই। এটা আছে বিএসএফের হাতে। তাকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন। অমিত শাহকে পদত্যাগ করতে বলুন। সব দায়িত্ব আপনাদের হাতে, আর দোষ আমাদের?’

টেলিপ্রম্পটার দেখে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেয়া নিয়েও কটাক্ষ করেন ভারত-বাংলাদেশ বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে আনেন মমতা।

তিনি বলেন, ‘আমি নিজের চোখে দেখেছি, ভারত-বাংলাদেশের একটা বৈঠক ছিল। সেখানে ভারত ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীরা ছিলেন। ৫ থেকে ৬ বছর আগেকার ঘটনা। আমাকে ডেকেছিল বলে আমি গিয়েছিলাম। ওখানে মাত্র সাত-আট জন মানুষ ছিলাম। ওখান থেকে ঘোষণা দেয়া হচ্ছিলো। সামনে একটা টেলিপ্রমটার লাগানো থাকে। আপনি দেখতে পাবেন না সেটা। কিন্তু যিনি লিখে নিয়ে এসেছেন তিনিই পড়তে পারবেন।’

কয়েক লাখ মানুষের নাম বাদ দেয়া নিয়ে মমতা বলেন, ‘যাদের নাম কাটা গেছে তারা নাকি অনুপ্রবেশকারী। আপনারাই তো ২০২৫ সালে দেশের সংসদে একটি প্রশ্নের উত্তরে তথ্য দিয়ে জানানো হয়েছিল যে গোটা ভারতে ২২০০ এর কিছু বেশি অনুপ্রবেশকারী এদেশে রয়েছে। তবে সবাইকে আমরা রোহিঙ্গা হয়ে গেলাম?’

বিজেপিকে আমোদি-প্রমোদির দল বলে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ‘সমস্ত জাতি, বর্ণ, ধর্ম সমানভাবে দেখে সংবিধান তৈরি হয়েছিল। আজও সেটা আমাদের রক্ষাকবচ। কিন্তু এরা (বিজেপি) সংবিধানের সমস্ত কিছু ধ্বংস করে দিচ্ছে, ইতিহাস পাল্টে দিচ্ছে। বিজেপির ধর্ম হচ্ছে দাঙ্গা। ওদের ধর্মে কোন শান্তি নেই, মানবিকতা নেই।’

এসএস