ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সামাল দিতে দরকার ছিলো এমন একটি দেশ যাকে দু’দেশই ভরসা করেন। মধ্যপ্রাচ্যে ছিলো এমন দেশের সংকট। কেননা সৌদি আরব, কাতার, ওমান, বাহরাইনসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোতে আছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি। যা সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে চলে যায়। সেদিক থেকে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে আছে পাকিস্তান।
আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে কূটনৈতিকভাবে চলমান এ সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসে ইসলামাবাদ। বর্তমানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে তারা। যার মাধ্যমে পুরো বিশ্বে কূটনৈতিকভাবে পাকিস্তান বেশ সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি করে চলেছে।
সামরিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক বিগ্রেডিয়ার মো. এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘পাকিস্তানের ভাবমূর্তি শুধু মধ্য এশিয়াতেই নয় বরং মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপসহ পুরো বিশ্বেই একটা দৃঢ় অবস্থানে চলে আসছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানকে তুলনা করলে বলা যায় কূটনৈতিক দিক থেকে বেশ ভালো অবস্থানে আছে ইসলামাবাদ। কূটনৈতিক অবস্থাস পাকিস্তান যা অর্জন করেছে ভারত তা হারিয়েছে।’
আরও পড়ুন:
এমনকি দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য পাকিস্তান যে ব্যবস্থা নিয়েছে তা দেশটির আত্মবিশ্বাস আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। কূটনৈতিকভাবে বলা হয়, এটা পাকিস্তানের জন্য বড় অর্জন।
সামরিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক বিগ্রেডিয়ার মো. এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘ইসলামাবাদে মিশর, ওমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক প্রমাণ করে পাকিস্তান এখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মূল চালকের আসনে আছেন।’
এদিকে, যে শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যুদ্ধ শুরু করেছিল তাতে দেশটি পুরোপুরি ব্যর্থ বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। কেননা, ইরান বলেছিল যুদ্ধ শুরু হলে একে আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপান্তর করবে দেশটি এবং তা করেও দেখিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যা ছিলো অপ্রত্যাশিত।
সামরিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক বিগ্রেডিয়ার মো. এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবে চিন্তা করে নাই ইরানও যে আক্রমণ করতে পারে। এমনকি সবগুলো আক্রমণই ছিলো নিখুঁত আক্রমণ।’
চলমান এ পরিস্থিতিতে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্র যখন মধ্যম মানের দেশ ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বার বার আগ্রহ দেখায় তাতে বোঝাই যায় ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা কমে আসছে- এমনই মন্তব্য বিশ্লেষকদের।





