এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে চন্দ্রনাথের খুনিরা

নিহত চন্দ্রনাথ রথ
এশিয়া
বিদেশে এখন
0

একদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দুর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথের খুনিরা। পুলিশ ও সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, খুনের প্রায় ছ’ঘণ্টা আগে চন্দ্রনাথের বাসভন এলাকায় দেখা যায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গাড়িটি। খুনিদের ধরতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিশ্লেষণ করছেন তদন্তকারীরা। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যায় কাজে ব্যবহৃত আরেকটি মোটরসাইকেল।

বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলিকরে হত্যার ঘটনায় এখনও পশ্চিমবঙ্গে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে খুনিদের। হত্যাকাণ্ডের মোটিভও অজনা।

তবে সুপারি কিলারের গুলিতেই চন্দ্রনাথের বুক ঝাঁঝরা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে ওঠে এসেছে। খুনিদের ধরতে যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ ও সিআইডি। দুর্বৃত্তরা অন্য রাজ্যে পালিয়ে গিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগোনার মধ্যগ্রামের নিজ বাসভনের খুব কাছেই চন্দ্রনাথকে খুন করা হয়। এসময় দুর্বৃত্তরা দু’টি মোটরসাইকেল এবং একটি চারচাকার গাড়িতে ব্যবহার করেছে। ওইদিন রাতেই গাড়িটি জব্দ করা হয়।

এছাড়া বৃহস্পতিবার পুলিশ উদ্ধার করেছে একটি মোটরসাইকেলও। তবে গাড়ি ও মোটরসাইকেলে থাকা নম্বরপ্লেট ভুয়া বলেও জানিয়েছে পুলিশ। গাড়িতে ভুয়া নম্বরপ্লেটের ব্যবহার পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে। আজ বারাসাতে ১১ নম্বর রেলগেটের কাছ থেকে দ্বিতীয় মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:

চন্দ্রনাথের গতিবিধির খবরাখবর খুনিদের কে দিলেন, কেনই বা দিলেন; সেই রহস্যের জট খুলতে আশপাশের এলাকার বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পেরেছে, খুনের প্রায় ছ’ঘণ্টা আগে ওই এলাকায় ঢুকেছিল চারচাকার গাড়িটি। এমনকি অন্তত এক থেকে দেড় মাস আগে এই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলেও সন্দেহ করছে তদন্তকারীরা। এর জন্য ওই অঞ্চলে কোথা থেকে, কার ফোন গিয়েছিল, মোবাইল ফোনের সূত্র ধরেও শুরু হয়েছে তদন্ত।

এই সংক্রান্ত তদন্তে গুলিবিদ্ধ হয়ে আইসিইউ-তে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়া চন্দ্রনাথের ড্রাইভার বুদ্ধদেবের বয়ান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এরইমধ্যে অস্ত্রপচারের মাধ্যমে বুদ্ধদেবের দেহ থেকে গুলি বেড় করা হয়েছে। তাকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন চিকিৎসকরা। তাছাড়া, কী ধরনের অস্ত্র খুনে ব্যবহার করা হয়েছিল, তা জানতে ফরেনসিক প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছে পুলিশ। মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া এলাকা এখনও থমথমে। পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা সেখানে মোতায়েন রয়েছেন।

এদিকে চন্দ্রনাথের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। তবে ছেলে হত্যাকাণ্ডে দোষীদের ফাঁসি নয়, যাবজ্জীবন সাজা চাইলেন চন্দ্রনাথের মা। অন্যদিকে ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার কারণে ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথকে খুন হতে হয়েছে বলে মন্তব্য করছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলকে নিশানা করে খুনিদের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তবে চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেসও। আদালতের নজরদরিতে সিবিআই তদন্তের জোর আহ্বান জানিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।

এসএস