বিজয়ের সঙ্গে শপথ নিলেন ৯ নেতা, কারা আছেন মন্ত্রিসভায়

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান
এশিয়া
বিদেশে এখন
0

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) সভাপতি জোসেফ বিজয়। তার সঙ্গে নয় সদস্যের একটি ছোট মন্ত্রিসভাও শপথ নিয়েছে। আজ (রোববার, ১০ মে) সকালে চেন্নাই নেহরু স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, তরুণ নেতৃত্ব, প্রযুক্তিনির্ভর পটভূমি এবং বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের সমন্বয় রেখে বিজয় এই মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। একই সঙ্গে দলের উত্থানের সময় যারা তার পাশে ছিলেন, তাদেরও পুরস্কৃত করা হয়েছে।

চেন্নাইয়ে শপথ নেয়া মন্ত্রীদের মধ্যে অন্যতম আলোচিত নাম এআইএডিএমকের প্রবীণ নেতা কে এ সেঙ্গোট্টাইয়ান। তিনি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এমজিআর ও জয়ললিতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।

ইপিএস নেতৃত্বের সমালোচনা এবং বহিষ্কৃত নেতাদের দলে ফেরাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার পর সেঙ্গোট্টাইয়ানকে এআইএডিএমকে থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তাকে মন্ত্রিসভায় নেওয়াকে নতুন সরকারের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা বাড়ানোর চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মন্ত্রিসভার আরেক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য আধাভ অর্জুনা। তিনি বিজয়ের ঘনিষ্ঠ কৌশলবিদদের একজন এবং দলের অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। চেন্নাইয়ের ভিল্লিভাক্কম আসন থেকে জয়ী হওয়া অর্জুনা লটারি ব্যবসায়ী সান্তিয়াগো মার্টিনের জামাতাও।

মাদুরাইয়ের থিরুপারানকুন্দ্রম আসন থেকে জয়ী নির্মল কুমারও মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। সাবেক এই বিজেপি নেতা রাজনৈতিক অবস্থান বদলে দক্ষিণ তামিলনাড়ুতে টিভিকের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে উঠে আসেন।

আরও পড়ুন:

টিভিকের সাধারণ সম্পাদক আনন্দও শপথ নিয়েছেন। চেন্নাইয়ের টি নগর আসন থেকে নির্বাচিত আনন্দ তৃণমূল পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক বিস্তারে বড় ভূমিকা রেখেছেন। এছাড়া শপথ নেয়া মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিচিত মুখ রাজ মোহন, যিনি তার বক্তৃতা দক্ষতার জন্য পরিচিত।

কারাইকুডি আসন থেকে জয়ী দন্ত চিকিৎসক থেকে রাজনীতিক হওয়া ড. টি কে প্রভুও মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আইআরএস চাকরি ছেড়ে টিভিকেতে যোগ দেওয়া চিকিৎসক অরুণ রাজ তিরুচেঙ্গোড আসন থেকে জয়ী হয়ে মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন।

চেন্নাইয়ের মাইলাপোরের বিধায়ক পি ভেঙ্কটরামাননকে সরকারে ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

মন্ত্রিসভার সবচেয়ে তরুণ সদস্য এস কীর্তনা। ভিরুধুনগর জেলা থেকে জয়ী এই নেত্রী তামিলনাড়ুর অন্যতম কনিষ্ঠ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন।

শপথ অনুষ্ঠানকে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলচ্চিত্রের সুপারস্টার থেকে সরাসরি রাজ্যের শাসনভার গ্রহণের মাধ্যমে বিজয় নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করলেন। টিভিকে সরকার গঠনে সমর্থন দেওয়া কংগ্রেস নেতারা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে আলোচনা শেষে পরে শপথ নিতে পারেন বলে জানা গেছে।

বিজয়ের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারকে আগামী ১৩ মে’র মধ্যে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে। কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিআই(এম), ভিসিকে এবং আইইউএমএলের সমর্থনে এই জোট সরকার গঠিত হয়েছে।

এএইচ