পেপার চোর গদি ছাড়, ডক্টরস ডিগ্রি টাকায় মিলছে- মঙ্গলবার প্রতিবাদী এসব স্লোগানে মুখরিত হয় দিল্লির শাস্ত্রী ভবনের সামনের রাস্তা।
আন্দোলনের কারণ ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস। গেল ৩ মে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কেন্দ্রে ২২ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয় চলতি বছরে ভারতের মেডিকেল আন্ডারগ্রাজুয়েট ভর্তি পরীক্ষায়। কিন্তু পরীক্ষার পরই সামনে আসতে থাকে প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ নানা অভিযোগ। এর জেরে মঙ্গলবার পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আর এতেই ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে পরীক্ষার্থীরা।
প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির রাস্তায় নামে বিরোধীদল কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়ার শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে পুলিশের দেয়া ব্যারিকেডের ওপর উঠে পড়ে তারা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সরকারের গাফিলতির কারণে প্রায়ই ঘটছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা।
আরও পড়ুন:
শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘মেডিকেলের প্রশ্ন বারবার ফাঁস হচ্ছে। তাহলে সরকারের কাজটা কি? সরকার যদি একটি পরীক্ষাই সঠিকভাবে পরিচালনা করতে না পারে, আহলে আমরা কার প্রতি ভরসা রাখবো?’
অন্য একজন বলেন, ‘এর আগেও প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কোনো সমাধান আসেনি। আমরা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির কার্যক্রমে হতাশ। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আবার ঘটবে।’
এ ঘটনায় দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানায় ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়ার সভাপতি বিনোদ জাখর।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের তিলে তিলে গড়া ভবিষ্যৎ হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামে ৫ থেকে ১০ হাজার রুপির বিনিময়ে বিক্রি হচ্ছে। আমি দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
দিল্লির বাইরে বিক্ষোভ হয়েছে কেরালাতেও। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি ও ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সিকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবিতে প্রদেশটির একটি বাম সংগঠন এ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে সামনে জড়ো হয়। এসময় পুলিশ তাদেরকে সরিয়ে দিতে চাইলে শুরু হয় ধ্বস্তাধ্বস্তি। ব্যারিকেড ভেঙ্গে শিক্ষার্থীরা সামনে এগিয়ে যেতে চাইলে তাদের ওপর জলকামান নিক্ষেপ করে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
এদিকে প্রশ্ন ফাঁসের ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ মনীশ যাদবকে জয়পুর থেকে আটক করেছে পুলিশ। আরেক অভিযুক্ত ধনঞ্জয় লোখান্ডেকে আহিল্যানগর থেকে আটক করা হয়।
এছাড়া মহারাষ্ট্র থেকে প্রশ্ন কেনার অভিযোগে আরও একজনকে আটক করেছে পুলিশ। এরইমধ্যে মামলার তদন্ত সিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, ভারতের সাতটি প্রদেশে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন বিক্রি হয়েছে।
অন্যদিকে ফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন পুনঃপরীক্ষার কার্যক্রম বিচারিক তত্ত্বাবধানে পরিচালনা ও পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী করতে সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করেছে।
এনডিটিভি জানায়, মূল পরীক্ষার প্রায় এক মাস আগে রাজস্থানের সিকার শহরের কোচিং সেন্টারগুলোতে একটি প্রশ্নপত্র শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়। সাত লাখের বেশি রুপিতে প্রশ্নগুলো কেনে শিক্ষার্থীরা। সেই প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মূল পরীক্ষার রসায়ন ও জীববিজ্ঞান অংশের প্রশ্ন হুবহু মিলে যায়। এ ঘটনার জেরে রাজস্থান পুলিশ বিশেষ অভিযান চালায়।
এদিকে পুনঃপরীক্ষার তারিখ শিগগিরই ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষা সচিব। এজন্য প্রবেশপত্র বা অন্যান্য খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হবে না। আর প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় বিরোধীদলগুলো কঠোর সমালোচনা করেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের।





