ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের অবনতি দেখা যায়। ভারতীয় পণ্যের ওপর চড়া হারে শুল্ক আরোপ, রাশিয়ার তেল কেনার দায়ে নয়াদিল্লীকে জরিমানা, এবং প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়া নিয়ে বিপাকে ভারত।
এমন অবস্থায় ভারতের প্রযুক্তি কেন্দ্র হায়দ্রাবাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নামকরণ করা হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস শাসিত দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তেলেঙ্গানার রাজধানীর এ রাস্তাটির নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাভিনিউ’। এ সড়কটি হায়দ্রাবাদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস সংলগ্ন। যেখানে মাইক্রোসফট, গুগল ও অ্যামাজনের মতো প্রধান মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলো অফিস রয়েছে।
ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর বলেন, ‘ভারতের ওপর আস্থা রাখছে বলেই হায়দ্রাবাদের পাশে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র এখানে এ অঞ্চলের মানুষদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। যেকোনো প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট ও দূতাবাসের দরজা সবসময় খোলা রয়েছে। এমন বিষয়গুলো চিহ্নিত করা হবে যা উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে। দুই দেশের সম্পর্ককে অন্য স্তরে নিয়ে যাওয়ায় লক্ষ্য।’
আরও পড়ুন
ট্রাম্পের নামে রাস্তার নামকরণ করায় বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে মোদি সরকার। এ পদক্ষেপকে ভণ্ডামি বলছেন তারা। দেশটির কমিউনিস্ট পার্টি এটিকে আপত্তিকর উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
আর তেলেঙ্গানা সরকারের ভাষ্য, ভারত- যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জোরদার করার বার্তা এ পদক্ষেপ। এর মধ্য দিয়ে হায়দ্রাবাদ শহর বিশ্বের বুকে জায়গা করে নেবে।
তেলেঙ্গানার উপ-মুখ্যমন্ত্রী মাল্লু ভাট্টি বিক্রমরকা বলেন, ‘মার্কিন কনস্যুলেটের পাশের এই সড়কটির নাম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে করার সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেডিড ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নিয়েছিলেন। তার এ ঘোষণাটি স্মরণীয় করে রাখতে এর চেয়ে ভালো সময় আর হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপন করতে যাচ্ছে। তেলেঙ্গানা-মার্কিন বন্ধুত্বের পরবর্তী অধ্যায়ের দিকে তাকিয়ে আছে সবাই।’
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে রাস্তার নামকরণের সিদ্ধান্ত এমন এক সময় হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রেই ট্রাম্পের নাম ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটনের একটি ফেডারেল আদালত বিখ্যাত কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগে বাধা দিলে সরিয়ে ফেলা হয় ট্রাম্পের নাম।





