ভারতে বন্যা-বর্ষণের তাণ্ডব, আসামে মৃত বেড়ে ৬২

আসামের বন্যা
এশিয়া
বিদেশে এখন
0

বিক্ষুব্ধ বর্ষায় দিশেহারা ভারতের বড় অংশ। বিপর্যয় পিছুই ছাড়ছে না বাসিন্দাদের। ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৪ প্রাণহানির পর আসামে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৬২ জনে। ভারী বর্ষণের কবলে গুজরাট। ১০০ বছরের চতুর্থ সর্বোচ্চ- ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে আহমেদাবাদে। তীব্র বন্যায় বন্ধ সব স্কুল, মুম্বাই-আহমেদাবাদ মহাসড়কে ১৫ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আটকে হাজারো মানুষ। রেড অ্যালার্ট অব্যাহত।

সপ্তাহজুড়ে চলছে বর্ষার তাণ্ডব, অব্যাহত রয়েছে। বিরামহীন বৃষ্টি আর বিধ্বংসী বন্যায় কাবু ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। দক্ষিণে কেরালার পাহাড়ি ঢাল থেকে শুরু করে মহারাষ্ট্রের নিম্ন উপকূলীয় এলাকা; অতিবৃষ্টি, বন্যা, ভূমিধসে সীমাহীন ভোগান্তিতে লাখ লাখ মানুষ।

পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটের উম্বারগাঁওয়ে ১১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ডের পরদিনই, ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিতে কয়েক ফুট পানির নিচে প্রাদেশিক রাজধানী আহমেদাবাদ। ১০০ বছরের ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ বৃষ্টিতে তীব্র জলাবদ্ধতায় স্থবির পুরো শহর। এরই মধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সব স্কুল।

আজ (শনিবার, ২৫ জুলাই) যানচলাচল বন্ধ আহমেদাবাদ-বিরামগাম মহাসড়কে; ১৫ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে পানির মধ্যে হাজারও মানুষ আটকে রয়েছে মুম্বাই-আহেমদাবাদ মহাসড়কে। দামান গঙ্গা নদীতে পানি উপচে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে গুজরাট-মহারাষ্ট্র সীমান্তে। বৃষ্টি আরও বাড়তে পারে বলে চলছে বেশ কিছু এলাকায় চলছে সর্বোচ্চ আবহাওয়া সতর্কতা রেড অ্যালার্ট।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগের বিজ্ঞানী অশোক কুমার দাস বলেন, ‘গুজরাট ও সৌরাষ্ট্র অঞ্চলে অতি থেকে অতি ভারী এবং অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি করা হয়েছে, সঙ্গে রেড অ্যালার্টও রয়েছে। ভাব-থারাদ, বানাসকান্থা, পাটন, মেহসানা, মোরবি, সুরেন্দ্রনগর, আহমেদাবাদ, গান্ধীনগর, খেড়া আর আনন্দ জেলায় অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টির সতর্কতা আর রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:

অন্যদিকে দক্ষিণপূর্বের আসাম রাজ্যে সপ্তাহব্যাপী বন্যায় দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। টানা বর্ষণে এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বড়- ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বেড়ে ভেসে গেছে প্রায় ৯০০ গ্রাম; পানির নিচে দেড় লাখ একর কৃষিজমি। বিদ্যুৎবিহীন সাত হাজার বাড়িঘর; ১২ জেলায় গৃহহীন সাত লাখের বেশি মানুষ।

সরকারিভাবে পরিচালিত ৩৬৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই হয়েছে মাত্র তিন লাখ মানুষের। ত্রাণ পৌঁছাতে হেলিকপ্টার থেকে বন্যাদুর্গত এলাকায় ফেলা হচ্ছে খাদ্য ও অন্যান্য জরুরি পণ্য। ধানসিঁড়ি-কুশিয়ারাসহ চার নদীতে পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে।

স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘লোকজনকে সরিয়ে নেয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। আগে ট্রাক্টর থাকতো, কিন্তু এখন তাও আসবে বলে মনে হয় না। লোকজন নিজেরাই সাইকেল বা রিকশায় করে আসছে, ফলে অনেক সমস্যা হচ্ছে।’

২৫ বছরে এই প্রথম এই এলাকায় এত পানি ঢুকেছে। এর আশেপাশের বাংলোগুলোতে প্রায় ১০ ফুট পানি ঢুকেছে। অন্যান্য এলাকায় প্রায় ৮, ৭ ও ৬ ফুট পানি ঢুকেছে। পুরো এলাকায় প্লাবিত হয়েছে।

আরও কিছু রাজ্যে নতুন করে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ। পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণে জারি করা হয়েছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা অরেঞ্জ অ্যালার্ট। বঙ্গোপসাগরের উত্তরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারতের পূর্ব ও উত্তরপূর্বাঞ্চণে মৌসুমী বৃষ্টিপাত জোরালো হয়েছে এবং আগামী ক’দিনে দেশের উত্তর-পশ্চিম অংশেও বৃষ্টি বাড়বে বলে রয়েছে আভাস।

এসএস