অস্ট্রেলিয়ার পর এবার গ্রিসেও বন্ধ হতে যাচ্ছে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া

সামাজিক মাধ্যমে আসক্তি
ইউরোপ
বিদেশে এখন
0

১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ২০২৭ সালের প্রথম দিন থেকে গ্রিসে বন্ধ হতে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার। পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নকেও একই পথে পরিচালালিত করার লক্ষ্যে এগুচ্ছেন বলে জানিয়েছেন গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী। কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এরআগে প্রথম দেশ হিসেবে শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করেছিলো অস্ট্রেলিয়া।

শিশু-কিশোরদের মেধা বিকাশের অন্তরায় হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। যার কারণে এবার ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গ্রিস সরকার।

২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোটাকিস। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে সময় কাটানোর ফলে শিশুদের মানসিক বিশ্রাম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অন্যদের সঙ্গে তুলনা ও নেতিবাচক মন্তব্যের চাপ তাদের ওপর বাড়তি মানসিক প্রভাব ফেলছে বলেও উল্লেখ করেছনে গ্রিসের সরকার প্রধান।

আরও পড়ুন:

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, গ্রিসের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ এ ধরনের নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করেছেন। এর আগে গ্রিস সরকার স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে এবং কিশোরদের স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। ২০২৭ সালের শুরুতে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধ করতে চলতি বছরের মাঝামাঝিতে আইন প্রণয়ন করার কথা রয়েছে গ্রিসের।

গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিস বলেন, ‘কেবল মুনাফা নির্ভর ব্যবসায়িক মডেল আমাদের শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যকে তুচ্ছ মনে করে। এমনকি গণতন্ত্রকেও গৌণ হিসেবে দেখে। দুর্ভাগ্যবশত সামাজিক মাধ্যমে বিষাক্ততা বাড়ায় এবং ভুয়া খবর ছড়ায়। আমাদের দেশে এর অবসান হতে চলেছে।’

ইউরোপজুড়েই এক কঠোর ডিজিটাল আইন প্রবর্তনের উদ্যোগ নিতে চান গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ডেনমার্ক , পোল্যান্ড ও মালয়েশিয়া এরই মধ্যেই নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথে এগুচ্ছে। শিশু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে সৃষ্ট জনরোষের মুখে সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোর ওপর ইইউ চাপ বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন:

ইইউ’র শিশু বিষয়ক আইন বিশেষজ্ঞ ফ্রান্সেসকা পিসানু বলেন, ‘শিশুদের অধিকার ইইউ-এর জন্য একটি বড় অগ্রাধিকার। ডিজিটাল মাধ্যমে শিশুদের অধিকার সুরক্ষায় ইতোমধ্যেই ইইউ-এর একটি শক্তিশালী কাঠামো রয়েছে। আমাদের জেনারেল ডেটা প্রোটেকশন রেগুলেশন-জিডিপিআর ছিলো; যা শিশুদের ডেটা সুরক্ষিত করছিল। তারপর ২০২২ সালে আমরা ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট নিয়ে আলোচনা করছিলাম। সেটিরও লক্ষ্য হলো শিশুদের জন্য উচ্চ স্তরের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাই এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, শিশুদের উপর সোশ্যাল মিডিয়ার সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে ইইউ সত্যিই উদ্বিগ্ন। যার কারণে কিছু পদক্ষেপ নিতে চায়।’

এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করেছে অস্ট্রেলিয়া। যার ফলে দেশটিতে শিশু-কিশোরদের জন্য বন্ধ রয়েছে টিকটক, ইউটিউব এবং মেটার ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম। মেটা, স্ন্যাপচ্যাট এবং টিকটক জানিয়েছে যে তারা এখনও বিশ্বাস করে অস্ট্রেলিয়ার এই নিষেধাজ্ঞা তরুণদের সুরক্ষা দেবে না। যদিও তারা আইন মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

জেআর