যুক্তরাজ্যে গত ১১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৬.২ শতাংশে পৌঁছেছে। অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে ১০ লাখের বেশি তরুণ কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছে। যাকে একটি ভয়াবহ সংকট হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
কাজের অভিজ্ঞতার অভাবে বেকারত্বের দুষ্টচক্রে আটোকে হাজারো তরুণ। আগামী পাঁচ বছরে প্রতি ছয়জন তরুণের মধ্যে একজন কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। কর্মসংস্থান কর বৃদ্ধি ছাড়াও পে-রোল সিস্টেমের মাধ্যমে বেতন থেকে কেটে সরাসরি সরকারকে কর দেয়ার মতো জটিলতাও রয়েছে।
চাকরি প্রার্থী মোহাম্মদ আবুল কাশেম বলেন, ‘অনেক এপ্লাই করছি, ইন্ডিডে এপ্লাই করছি, টোটাল জবে এপ্লাই করছি। অনেক ইন্টারভিউ দিয়েছি আমি। ইন্টারভিউ দেয়ার পরে আমাকে নেয় নাই, রেফারেন্সের অনেক সময় রেফারেন্সের কারণে নেয় নাই। অনেক সময় আছে আমারও টার্ম টাইম ২০ ঘণ্টা ছিল। পার্টটাইম জব ছিল এজন্য নেয় নাই, ফুলটাইম রিকোয়ারমেন্ট ছিল এজন্য নেয় নাই। বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে ওরা নেয় নাই।’
আরও পড়ুন:
সবশেষ সরকারি তথ্য বলছে, এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে শূন্যপদের সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র মাত লাখ পাঁচ হাজারে—যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে অলসতা কিংবা নানা সুযোগ সুবিধার জন্য বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছেন। এতে করে অভাবের সঙ্গে অপরাধের হার বাড়ছে।
যুক্তরাজ্যের কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার আতাউর রহমান বলেন, ‘যারা কাজ করতেছেন না, দে আর দ্য বার্ডেন ফর দ্য কমিউনিটি। এই বার্ডেন কমিউনিটির সবকিছু মিলিয়ে অপরাধ প্রবণতা বাড়বে। এটা আমাদের কমিউনিটির যে মান বা সূচক—যেটা ইনডেক্স আমরা যেটা বলি, অ্যাকোর্ডিং টু সোশ্যাল স্ট্র্যাটিফিকেশন—আমাদের বাংলাদেশি কমিউনিটি অবশ্যই এইটা আমাদেরকে নিচের দিকে ধাবিত করবে, ওপরের দিকে তুলবে না।’
বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা, কর বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে রেস্টুরেন্ট, হসপিটালিটি, রিটেইল ও কেয়ার খাত চাপের মুখে পড়েছে। ছোট-বড় অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করছে এবং নতুন নিয়োগ কমিয়ে দিয়েছে।
লন্ডনের ফিস্ট অ্যান্ড মিস্টির ম্যানেজার সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘যেকোনো কোম্পানিই মানুষ নিয়োগের ক্ষেত্রে তারা যাতে দেখে যে ফ্লেক্সিবিলিটি এবং সোশ্যাল এবং আনসোশ্যাল আওয়ার কাজ করার এবিলিটি। যদি দেখা যায় অনেকে বলে যে না আমি ওই ঘণ্টা কাজ করবো, ওই ঘণ্টা করবো না, হ্যাঁ? আমি ওইদিন করতে পারবো, ওইদিন করতে পারবো না; তখন কোম্পানিরা তাদের ব্যাপারে একটু রিবিল্ড বা রিথিংক করবে।’
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশি কমিউনিটির তরুণদের ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব মোকাবিলায় কর্মসংস্থানে যুক্ত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানায় ব্রিটিশ বাংলাদেশি চেম্বার অব কমার্স।
ব্রিটিশ বাংলাদেশি চেম্বার অফ কমার্সের ডিজি দেওয়ান মাহদি বলেন, ‘থ্রুআউট দ্য ইয়ার আমাদের নাম্বার অব ইভেন্টস হয়ে থাকে। যেকোনো ইন্ডিভিজুয়ালরা এখানে আসতে পারেন এবং এই ইভেন্টগুলার অপরচুনিটি নিতে পারেন নেটওয়ার্কিংয়ের জন্য। নম্বর টু হচ্ছে গিয়ে মেন্টরিং অপরচুনিটি। থ্রি হচ্ছে গিয়ে ট্রেনিং অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি নলেজ। আমরা নম্বর অব ট্রেনিং করে থাকি এবং ইন্ডাস্ট্রি নলেজের ওপর আমাদের এক্সপার্টরা এখানে আসেন। কিছুদিন আগে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ওপর আমাদের একটা ট্রেনিং হয়েছে, এআইর ওপর। এর আগে ইসলামিক ফাইনান্সের ওপর আমাদের একটা সেমিনার হয়েছে। এই তিনটা জায়গাতে বিবিসিসিআই এমপ্লয়মেন্ট ক্রিয়েট করার জন্য এবং এন্টারপ্রেনিউর ক্রিয়েট করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।’
সরকারি তথ্যে বলা হয়, যুব বেকারত্বের কারণে বছরে প্রায় ১২৫ বিলিয়ন পাউন্ড সরকারি অর্থ খরচ হচ্ছে। বিরোধীদলের মতে,ট্যাক্স বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে যুবকদের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।





