বাজারে রেকর্ড পরিমাণ তেল ছাড়ার প্রস্তাব আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার

তেল সংরক্ষণাগার
মধ্যপ্রাচ্য
বিদেশে এখন
0

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা কমাতে আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা তাদের মজুত থেকে রেকর্ড পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে। কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সংস্থাটি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তবে হোয়াইট হাউজ বলছে, তেলের দাম বৃদ্ধি সাময়িক। এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানি তেলবাহী একটি ট্যাঙ্কারকে চলাচল করতে দেখা গেছে।

যুদ্ধে ইরানের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে এক ফোঁটা তেলও এ প্রণালি দিয়ে রপ্তানি হতে দেবে না এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। অন্যদিকে ট্রাম্প বলেছেন, তেল সরবরাহ বন্ধের চেষ্টা করলে ধূলিসাৎ করে দেয়া হবে ইরানকে। এর জেরে অস্থিরতা চলছে জ্বালানি তেলের বাজারে।

এমন অবস্থায় তেলের দাম সহনীয় রাখতে আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ) তাদের মজুত থেকে রেকর্ড পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে। সংস্থাটির বরাত দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সংস্থাটি ১৮২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছেড়েছিল। তবে এবার আরও অনেক বেশি পরিমাণে তেল বাজারে ছাড়ার খবর পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে আইইএ’র সদস্য দেশগুলোর সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে কোনো একটি দেশ আপত্তি জানালে সেই পরিকল্পনা বাতিল হতে পারে। পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে আইইএকে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জি-সেভেন জোটের মন্ত্রীরা।

বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংস্থা আরামকোর আশঙ্কা, চলমান উত্তেজনায় জাহাজ চলাচলে ব্যাঘাত ঘটলে বৈশ্বিক তেলের বাজারের জন্য তা বিপর্যয় ডেকে আনবে।

আরও পড়ুন:

এদিকে, গতকাল (মঙ্গলবার, ১০ মার্চ) দুই মিলিয়ন ব্যারেল তেল বহনকারী ইরানের একটি সুপারট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়েছে। জাহাজ ট্র্যাকারের তথ্য থেকে জানা যায়, গায়ানার পতাকাবাহী জাহাজটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিল। যুদ্ধের মধ্যেও গত ১২ দিনে ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ করেছে ইরান। এছাড়া এ রুট পাড় করেছে তেল ও গ্যাসের অন্তত ৫টি ইরানি জাহাজ।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রে একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা যায়, তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন ৬৭ শতাংশ আমেরিকান।

তবে হোয়াইট হাউজ বলছে, যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জিত হলে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত হ্রাস পাবে। এ বিষয়ে মার্কিন জনগণকে আশ্বস্ত করেন প্রেস সেক্রেটারি কেরোলিন ল্যাভিট।

হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন ল্যাভিট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার জ্বালানি টিম বাজারের ওপর গভীর নজর রাখছেন। শিল্প নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে। হরমুজ প্রণালি চালু রাখার জন্য ট্রাম্পের নির্দেশ অনুসরণ করে মার্কিন সেনাবাহিনী পদক্ষেপ নিচ্ছে। তেল ও গ্যাসের দামের এ বৃদ্ধি সাময়িক। অপারেশন এপিক ফিউরি সফল হলে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির দাম কমবে।’

তেলের বাজার স্বাভাবিক রাখতে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্ভাব্য যে কোন পদক্ষেপ নিতে রাজি। এদিকে তেলের দাম কিছুটা কমায় স্বস্তি ফিরেছে এশিয়ার শেয়ারবাজারে। টোকিও, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইপে, হংকংয়ের শেয়ার বাজারের সব সূচকই ছিল ঊর্ধ্বমুখী।

জেআর