খামেনি হত্যার পরও ভাঙেনি ইরানি নেতৃত্ব: রয়টার্স প্রতিবেদন

ইরানের যুদ্ধের ছবি
মধ্যপ্রাচ্য
বিদেশে এখন
0

খামেনিকে হত্যা করে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথভাবে হামলা চালানোর পরও; ইরানি নেতৃত্ব ভেঙে পড়ার কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি। মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট তিন সূত্রের বরাতে এ বিষয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামনিকে হত্যা করেও ইরানকে দমাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। উল্টো তেহরানের পাল্টা হামলার তীব্রতায় কাঁপছে ইসরাইলসহ মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও বিভিন্ন স্থাপনা। ধ্বংসের হুমকি দিলেও; কোনো আপোষ না করে হুংকার দিয়ে দিনের পর দিন হামলার তীব্রতা বাড়িয়েই যাচ্ছে ইরান। খামনি পুত্র মোজতবা খামেনি সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পর শত্রুদের বিরুদ্ধে কিছুতেই দমে না যাওয়ার কড়া বার্তাও দিচ্ছে তেহরান।

এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট তিন সূত্রের বরাতে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। যেখানে বলা হয়, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে মার্কিন-ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকলেও; অদূর ভবিষ্যতে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা বা নেতৃত্ব ভেঙে পড়ার কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি। অর্থাৎ এখনও শক্তিশালী অবস্থানেই আছে খামেনিতন্ত্র। এমনকি ইরানের জনগণের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণও বজায় আছে।

আরও পড়ুন:

এদিকে, তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ২০০৩ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযানটি দ্রুত শেষ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানের কট্টরপন্থি নেতৃত্ব যদি দৃঢ়ভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকে, তাহলে যুদ্ধের গ্রহণযোগ্য সমাপ্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়; হামলার প্রথম দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হলেও ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের মধ্যে এখনো ঐক্য বজায় রয়েছে।

একজন জ্যেষ্ঠ ইসরাইলি কর্মকর্তাও রয়টার্সকে জানান, তেল আবিবও নিজেদের মধ্যে আলোচনায় স্বীকার করেছে যে এ যুদ্ধের ফলে ইরানের ধর্মীয় সরকারের পতন ঘটানোর কোনো নিশ্চয়তা নেই। সূত্রগুলো জোর দিয়ে এও বলেছে যে, পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিশীলতা যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে।

মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের দপ্তর এবং সিআইএ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। হোয়াইট হাউজও এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধ করা হয়ে রয়টার্সকে কোনো জবাব দেয়নি।

জেআর