ব্রিটিশ–মার্কিন ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়ার ভেতরের গল্প

দিয়েগো গার্সিয়ার
মধ্যপ্রাচ্য
বিদেশে এখন
1

দিয়েগো গার্সিয়া বিমানঘাঁটি প্রায় ২,৫০০ জন সামরিক কর্মীর আবাসস্থল, যাদের বেশিরভাগই আমেরিকান। এই ঘাঁটিটি ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে শুরু করে ইরাক, আফগানিস্তান এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ওপর চালানো হামলার মতো বিভিন্ন মার্কিন সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করেছে।

দিয়েগো গার্সিয়া হলো ভারত মহাসাগরের মাঝখানে, ভারতের তলদেশ ঘেঁষে অবস্থিত একটি দূরবর্তী দ্বীপপুঞ্জ ‘চাগোস দ্বীপপুঞ্জের’ অংশ। ১৮১৪ সাল থেকে এ দ্বীপগুলো ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে হস্তান্তর করার ব্রিটিশ পরিকল্পনার কারণে বর্তমানে এ দ্বীপগুলো নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিবাদ চলছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য সার্বভৌমত্ব ছেড়ে দিলেও দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিটি পুনরায় লিজ (ইজারা) হিসেবে গ্রহণ করবে।

ভারত মহাসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ এবং চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব হস্তান্তর নিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সম্প্রতি এই ইস্যুতে দুই মিত্র দেশের মধ্যে নজিরবিহীন কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা আইনি লড়াইয়ের পর, ২০২৫ সালের মে মাসে যুক্তরাজ্য সরকার চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের চুক্তি সই করে।

আরও পড়ুন:

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, মরিশাস দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা পেলেও দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিটি পরবর্তী ৯৯ বছরের জন্য যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র লিজ (ইজারা) হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে। প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এই পদক্ষেপকে ঘাঁটির ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য ‘অপরিহার্য’ বলে বর্ণনা করেছেন।

দিয়েগো গার্সিয়ার |ছবি: সংগৃহীত

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে একে ‘চরম বোকামি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, এই চুক্তির ফলে ওই অঞ্চলে চীনের প্রভাব বৃদ্ধি পাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এই ঘাঁটির গুরুত্ব অপরিসীম।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আদালতের আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য এই চুক্তি ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা এই চুক্তি বাতিল বা পুনর্মূল্যায়নের জন্য লন্ডনের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারে।

এই রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই আজ (শনিবার, ২১ মার্চ) ভোরে ইরান থেকে দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে দুটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, একটি মিসাইল মাঝপথেই ধ্বংস হয়েছে এবং অন্যটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে, তবে এই ঘটনা ঘাঁটির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

Iran and diego garcia | Missiles to diego garcia | Diego Garcia attack

এনএইচ