ইরান যুদ্ধের প্রভাবে নয়াদিল্লি ছাড়ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ

নয়াদিল্লি ছাড়ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ
মধ্যপ্রাচ্য , এশিয়া
বিদেশে এখন
0

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভুগছে ভারতীয় কৃষকরা। জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ভারতজুড়ে দেখা দিয়েছে সারের সংকট। এতে একদিকে বাড়ছে উৎপাদন খরচ, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে ফলন। দেশটির বেশকিছু রাজ্য তীব্র খাদ্য সংকটের শঙ্কায় রয়েছে। এদিকে, রান্নার গ্যাস এলপিজির আকাশচুম্বী দামে রাজধানী নয়াদিল্লি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। বিকল্প জ্বালানি খুঁজে বেড়াচ্ছেন বাসিন্দারা।

২০০ কোটি মানুষের আবাসস্থল দক্ষিণ এশিয়ায় প্রধান খাদ্যশস্য হলো গম ও ধান। আর শস্য ফলনে ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল সারের ওপর। বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে কৃষি খাতে বার্ষিক ৪০০ বিলিয়ন ডলার লেনদেন হয়। দেশটির ১০ কোটির বেশি মানুষ কৃষির সরাসরি ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও নেপালও কৃষিনির্ভর।

কৃষিতে নিযুক্ত দক্ষিণ এশিয়ার বাসিন্দাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী; নেপালে কৃষি কাজে নিযুক্ত প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ, ভারতে কৃষি কাজে নিযুক্ত প্রায় ৪৬ শতাংশ, বাংলাদেশে কৃষি কাজে নিযুক্ত প্রায় ৪০ শতাংশ, পাকিস্তানে কৃষি কাজে নিযুক্ত প্রায় ৩৮ শতাংশ।

সারের ব্যবহার এ অঞ্চলের কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে গত কয়েক দশক ধরেই। আর সহজলভ্য সারের জন্য হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ দেশ। ভারতের অন্যতম প্রধান জীবিকা কৃষিকাজের জন্য ইউরিয়া এবং ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট বা ডিএপি সারের প্রায় অর্ধেক আমদানি করা হয় মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ইউরিয়া সারের বৃহত্তম সরবরাহকারী ওমান আর ডিএপির বৃহত্তম সরবরাহকারী সৌদি আরব।

আরও পড়ুন:

সাধারণত গ্রীষ্ম মৌসুমের আগেই, মার্চ থেকে মে এ তিন মাসে ইউরিয়া ও ডিএপি সারের চালান এসে পৌঁছায়। কারণ জুন-জুলাই মাসে ফসল রোপণে সারের চাহিদা বাড়ে বহুগুণ। এদিকে, ইউরিয়া সার উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এলএনজি সংকটও তীব্র হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় ভারতে ব্যাহত হচ্ছে সার ও এলএনজি সরবরাহ। সংকটের মুখে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সার। এতে বাড়ছে উৎপাদন খরচ। আর্থিক সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। খাদ্য সংকট এড়াতে সার ও বীজের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় একজন কৃষক বলেন, ‘সারের সংকট পুরো দেশেই বিপর্যয়কর ডেকে আনবে। কৃষকরা পর্যাপ্ত ফসল ফলাতে না পারলে, দেখা দিতে পারে খাদ্য সংকট।’

এদিকে, কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ গ্যাস সংকটে পড়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি আমদানিকারক দেশ ভারত। রান্নার গ্যাস এলপিজির আকাশছোঁয়া দামে হুমকির মুখে শহরের নিম্ন আয়ের মানুষ। শিল্পখাতে সরবরাহ কমিয়ে গৃহস্থালি কাজে গ্যাসের সরবরাহ বাড়িয়েও সংকট সমাধান করতে পারছে না সরকার।

আরও পড়ুন:

জীবনযাত্রার ব্যয় নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় নয়াদিল্লি ছাড়ছেন সীমিত আয়ের মানুষ। রান্নার গ্যাসের সংকট ও বাড়তি দামে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

স্থানীয় এক নারী বলেন, ‘এলপিজি সিলিন্ডারের যে দাম, এ অবস্থায় আমরা কী করার আছে আমাদের? গ্রামে চলে যাচ্ছি অন্তত কাঠ ও লাকড়ি জ্বালিয়ে খাবার রান্না তো করতে পারবো।’

দিল্লি ছাড়া মুম্বাইসহ বেশিরভাগ রাজ্যেই এলপিজির জন্য হাহাকার করছে বাসিন্দারা। প্রায় প্রতিটি বিতরণ কেন্দ্রেই গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি। এলপিজির ওপর চাপ কমাতে বিকল্প হিসেবে কেরোসিন, কয়লা ও বায়োগ্যাসের দিকে ঝুঁকছে অনেকে। ৩৩ কোটি গৃহস্থালি এলপিজি গ্রাহকদের মধ্যে মাত্র সাড়ে ১০ কোটি নিম্ন-আয়ের পরিবার সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি পায়।

সংকট মোকাবিলায় ভারত দৈনিক ৮০ হাজার টন এলপিজির চাহিদার বিপরীতে অভ্যন্তরীণ এলপিজি উৎপাদন ৪০ শতাংশ বাড়িয়ে ৫০ হাজার টন করেছে। এছাড়া, পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সংযোগ দেয়ার পরিকল্পনা করছে ভারত সরকার।

জেআর