ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে বিরত রাখতে যুদ্ধ, নৌ-বন্দর অবরোধসহ সব প্রচেষ্টাই অব্যাহত রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার অভিযোগ, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। যদিও, প্রথম থেকেই তেহরানের দাবি, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং এটি জ্বালানি, চিকিৎসাসহ বেসামরিক বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে ব্যবহৃত হয়।
এবার ইরানের দাবির স্বপক্ষে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দেশটির গণমাধ্যম প্রেস টিভি। প্রায় দুই দশক ধরে, ইরানের চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা পারমাণবিক উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে, দেশটিতে জন্ম নেয়া প্রতিটি শিশুর শরীরে ৫৮টি বিপাকজনিত রোগ শনাক্ত ও প্রতিরোধে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করছে।
সাধারণত, শিশু জন্ম নেয়ার ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে পায়ের গোড়ালি থেকে কয়েক ফোঁটা রক্ত নিয়ে এ পরীক্ষা করা হয়। আর এ স্ক্রিনিংয়ের মূল প্রযুক্তি হলো ট্যান্ডেম মাস স্পেকট্রোমিটার । পারমাণবিক গবেষণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা প্রযুক্তিটি ব্যবহার করে শিশুর রক্তে বিভিন্ন অ্যামিনো অ্যাসিড ও রাসায়নিক উপাদানের মাত্রা তৈরি করা হয়।
এছাড়াও, ইরানের বিজ্ঞানীদের দাবি, ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মূলত তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ মলিবডেনাম ৯৯ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। আর এটি থেকে হৃদরোগ, ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত আইসোটোপ টেকনেশিয়াম-৯৯ তৈরি হয়।
রাসুল আকরাম মেডিকেল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের চিকিৎসক হাসান আমিরি বলেন, ‘এ উন্নত প্রযুক্তি আধুনিক রোগ নির্ণয়ে ভালো ফলাফল দিচ্ছে। বিশেষ করে ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী রোগ শনাক্তে ভূমিকা রাখছে।’
এর আগে, ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থা নিশ্চিত করেছিল, ইরান তাদের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশ চিকিৎসাবিজ্ঞানে পরিচিত রেডিওআইসোটোপ উৎপাদনে ব্যবহার করে।
গবেষণা বলছে, ইরানে বংশগত বিপাকজনিত রোগে আক্রান্তের গড় হার বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি। ২০২৫ সালে ফার্স প্রদেশে প্রায় দেড় লাখ শিশুর ওপর গবেষণা চালিয়ে হাজারে একজনের শরীরে জিনগত রোগের উপস্থিতি পায় গবেষকরা।
বর্তমানে, ইরান ৬৯ ধরনের ডায়াগনস্টিক ও থেরাপিউটিক রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদন করছে এবং বছরে ১০ লাখের বেশি রোগীকে চিকিৎসা দিচ্ছে। ইরানি গবেষকদের অভিমত, তাদের মডেল প্রতিবছর হাজারও শিশুকে প্রতিবন্ধকতা ও অকালমৃত্যু থেকে বাঁচাতে সক্ষম এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও এই প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগ নিচ্ছেন তারা।





