হরমুজে টোল থেকে সমঝোতা—বারবার অবস্থান বদলে চাপে ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্য
বিদেশে এখন
0

ইরানের ফাঁদে পা দিয়ে বারবার হেনস্থা হচ্ছেন ট্রাম্প। হরমুজে চলাচলকারী জাহাজে ২০ শতাংশ টোল বসানোর হুমকি দিয়েও শেষ পর্যন্ত তা প্রত্যাহার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর বীরদর্পে উদযাপন করলেও এখন সুর পাল্টে বলছেন এ চুক্তি ব্যর্থ হলে কিছু আসে যায় না। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস, এবার পরমাণু কর্মসূচি সামনে এনে ইরানকে কোণঠাসা করার শেষ চেষ্টা করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

চুক্তি বা শর্ত পছন্দ না হলে হুটহাট তা থেকে বের হয়ে যাওয়া ছিলো ট্রাম্পের অন্যতম ট্রেডমার্ক পলিসি। প্যারিসের জলবায়ু চুক্তি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদস্যপদ কিংবা ওবামার আমলে করা ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি- কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করেননি ট্রাম্প। কিন্তু ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পাল্টে গেছে সমীকরণ।

সাম্প্রতিক হামলার পর ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পসের আগেই জুনের সমঝোতা স্মারক বাতিল করে দেন ট্রাম্প। কিন্তু এ চুক্তিটি ইরানের চেয়েও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিলো।

স্মারকে সইয়ের পর খোদ ট্রাম্প বলেছিলেন, এরই মধ্য দিয়ে চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। ৩ হাজার বছর পর মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিষ্ঠিত হবে প্রকৃত শান্তি। কিন্তু চুক্তি যখন টিকলো না তখন ভোল পাল্টে ট্রাম্প বললেন এ স্মারক ইরানের জন্য একটি পরীক্ষা ছিলো যেখানে তারা ফেল করেছে। কিন্তু সিএনএনের বিশ্লেষণ, হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকায় চুক্তি থেকে আসলে বের হয়ে যায় ইরান, হামলা চালানো হয় সিঙ্গাপুর পানামা কিংবা সাইপ্রাসের পতাকাবাহী জাহাজে। আর এটিই ছিলো ট্রাম্পের কৌশলকে অনুসরণ করে তাকেই বিপদে ফেলা।

আরও পড়ুন

আবার হরমুজে চলাচলকারী জাহাজে টোল বসানোকে অবৈধ আগ্রাসন আখ্যা দেয়ার পর নিজেই ২০ শতাংশ ফি বসানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এর ২৪ ঘণ্টা না যেতেই সেই হুমকি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। যা প্রমাণ করে ইরানের বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগ নীতি খুব একটা কাজে আসছে না। এ নিয়ে রসিকতা করেছেন খোদ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এক্স পোস্টে লিখেছেন, ২০ শতাংশ ফি নেয়া অতি বাড়াবাড়ি, তেহরান ন্যায্য হারেই টোল বসাবে।

এসব ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে ইরানের ফাঁদে এরই মধ্যে পা দিয়ে ফেলেছেন ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কিংবা যুদ্ধ বন্ধ কোন ইস্যুতেই আশানুরূপ ফল পাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে অসন্তোষ সামনে আনা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই ট্রাম্পের সামনে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও ইরান বিশেষজ্ঞ মোস্তফা খোশচেসম বলেন, ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ ছাড়া আর তো কোনো উপায় নেই। শুধু পারমাণবিক কর্মসূচির মধ্যে বিষয়টি সীমাবদ্ধ নয়। তাহলে গত বছরই

এর সমাধান হতো। সমস্যা হচ্ছে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে ইরানের দৃঢ় অবস্থান। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে রোল মডেল হয়ে উঠেছে, এটা তারা মানতে পারছে না।’

সর্বাত্মক যুদ্ধ ছাড়া আর তো কোনো উপায় নেই। শুধু পারমাণবিক কর্মসূচির মধ্যে বিষয়টি সীমাবদ্ধ নয়। তাহলে গেল বছরই এর সমাধান হতো। সমস্যা হচ্ছে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে ইরানের দৃঢ় অবস্থান। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে রোল মডেল হয়ে উঠেছে, এটা তারা মানতে পারছে না।

বিশ্লেষকরা আরও মনে করেন, ব্যাকফুট থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পরমাণু কর্মসূচির ইস্যুকে আবারও ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে যুক্তরাষ্ট্র। অতীতে ইরানে বড় ধরণের অভিযান চালানোর আগে বারবারই এর নজির পাওয়া গেছে।

জেআর