মার্কিন ভিসা জামানত, বাংলাদেশসহ ২৫ দেশ নতুন তালিকায়

ভিসা ওভারস্টে ঠেকাতে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলারের বন্ড
প্রবাস , উত্তর আমেরিকা
বিদেশে এখন
0

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ৩৮টি দেশের ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভিসাধারীদের জন্য সর্বোচ্চ ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত বাধ্যতামূলক করে কর্মসূচি চালু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তাদের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে নেয়া ১২ মাসের পরীক্ষামূলক এ কর্মসূচিতে সবশেষ যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশসহ ২৫টি দেশ। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার মনোভাবকে নিরুৎসাহিত করাই এ নীতির মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

চাকরি, ব্যবসা, শিক্ষা কিংবা বসবাস, নানা উদ্দেশ্যেই প্রতি বছর হাজারও অভিবাসনপ্রত্যাশী পাড়ি জমান বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে। যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম আকর্ষণ। তবে ভিসা ওভারস্টে অর্থাৎ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার হার উল্লেখযোগ্য। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, বহু বিদেশি নাগরিক ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেও সময়মতো নিজ দেশে ফেরেন না। আর তাই এমন পরিস্থিতিতে কঠিন পদক্ষেপ দেশটি যুক্তরাষ্ট্র। ভিসা পেতে এখন দিতে হবে মোটা অংকের জামানত বা ভিসা বন্ড।

ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ অর্থবছরে প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ ভিসাধারীর প্রস্থান করার কথা থাকলেও প্রায় ৪ লাখ ভিসাধারী মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশে থেকে যান। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে থাকা অভিবাসীদের একটি বড় অংশই ভিসা ওভারস্টে করেন।

ভিসা বন্ড হলো সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে নেয়া একটি ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানত, যার উদ্দেশ্য ভিসাধারীদের শর্ত মানতে বাধ্য করা। এর আগে, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য ওভারস্টে নিয়ন্ত্রণে ভিসা বন্ড চালুর চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও ২০২০ সালে ভিসা বন্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছিল, তবে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।

আরও পড়ুন:

ভিসা বন্ডের আইনি ভিত্তি যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট দ্বারা নির্ধারিত। ভিসা বন্ড কর্মসূচির আওতায় তালিকাভুক্ত দেশের বি-১ এবং বি-২ অর্থাৎ ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভিসা আবেদনকারীদের বন্ড দেয়া বাধ্যতামূলক। বন্ডের পরিমাণ ৫ হাজার, ১০ হাজার বা ১৫ হাজার ডলার হতে পারে, যা ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় কনস্যুলার কর্মকর্তা নির্ধারণ করবেন।

আবেদনকারীকে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির নির্ধারিত ফরম জমা দিতে হবে এবং পে ডট গভ–এর মাধ্যমে বন্ডের শর্তে সম্মতি জানাতে হবে। সরকারি ব্যবস্থার বাইরে অর্থ পরিশোধ করলে যুক্তরাষ্ট্র সরকার দায় নেবে না, এবং কনস্যুলার কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া বন্ড বা ফি জমা দিলে তা ফেরত পাওয়া যাবে না। এছাড়া, ভিসা বন্ড পরিশোধ করলেই ভিসা নিশ্চিত হয়, এমন নিশ্চয়তাও নেই।

ভিসা বন্ড দেয়া ভিসাধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও প্রস্থান করতে হবে বোস্টনের লোগান, নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি এবং ওয়াশিংটনের ডুলাস, শুধু এ তিনটি নির্ধারিত বিমানবন্দর দিয়ে। এসব নির্ধারিত বিমানবন্দর ছাড়া অন্য কোনো স্থান দিয়ে প্রবেশ বা প্রস্থান করলে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার অনুমতি বাতিল হতে পারে বা প্রস্থানের তথ্য সঠিকভাবে নথিভুক্ত নাও হতে পারে।

ভিসা বন্ডের শর্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বন্ড বাতিল হয়ে অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দেয়া হবে। ভিসাধারী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বা তার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণই না করলে অথবা নির্ধারিত বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন করলে কিন্তু প্রবেশাধিকার প্রত্যাখ্যাত হলে।

ভিসা বন্ড হলো যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদারের একটি নতুন উদ্যোগ। নতুন অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বেশির ভাগ দেশের জন্যই এটি আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

এএম