এখনও দৃষ্টিসীমার বাইরে নিউইয়র্ক নিউজার্সি স্টেডিয়াম। তবে কানাডার দাবানলের কালো ধোঁয়া নয়, অঝোরে নামতে থাকা প্রবল বৃষ্টিতে ঝাপসা চারপাশ। আজ (রোববার, ১৯ জুলাই) এ স্টেডিয়ামেই অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচ। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’র চূড়ান্ত ক্লাইম্যাক্সের আগে শনিবার এ ঝড়-বৃষ্টি কিছুটা চিন্তায় ফেলেছে আয়োজকদের।
যদিও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃতির আশীর্বাদ হয়ে নেমে আসা অবিরাম এ বর্ষণে কিছুটা পরিষ্কার হবে আকাশ। কমে যাবে কানাডার দাবানলের ধোঁয়ার তীব্রতা। মার্কিন আবহাওয়া অফিসের তথ্য, রোববার নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে বায়ুর মান ভালোর চেয়ে সামান্য নিচু ক্যাটাগরিতে থাকবে। তবে, বৃষ্টির কারণে অস্বাস্থ্যকর এই পরিবেশের কিছুটা উন্নতি হবে বলেও আশা করা হচ্ছে। আর নিউজার্সির স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে, বৈরী এই আবহাওয়া কারণে খেলা দেখতে আসা দর্শকদের ভোগান্তিতে পড়তে হবে না।
আরও পড়ুন
এদিকে, প্রবল বৃষ্টি আর বন্যায় বিপর্যস্ত চিলির দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চল। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে আড়াই লাখেরও বেশি মানুষের। আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বন্যা দুর্গত সাড়ে ৪০০ স্থানীয়কে। ঝড়ের পূর্বাভাস থাকায় চলতি সপ্তাহেও অতিভারী বৃষ্টির আশঙ্কা করছে চিলির আবহাওয়া অফিস। যা ছাড়িয়ে যেতে পারে অতীতের যে কোনো বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড।
এদিকে, মৌসুমি আবহাওয়া ও নিম্নচাপের প্রভাবে একের পর এক দুর্যোগ নেমে আসছে এশিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে। অতিবৃষ্টির পর এবার আকস্মিক বন্যা কবলিত হয়েছে ভিয়েতনামের পাহাড়ি অঞ্চল। উত্তরের গ্রামগুলোতে প্রাণহানির পাশাপাশি পানিতে ভেসে নিখোঁজ হয়েছেন বেশ কয়েকজন। গতকাল (শনিবার, ১৮ জুলাই) ভিয়েতনামের বিভিন্ন অংশে ২৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। তাই, চলতি সপ্তাহে আবারও আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের বিষয়ে স্থানীয়দের সতর্ক করেছে প্রশাসন।
অন্যদিকে, টাইফুন আর বন্যার ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই এবার দক্ষিণপশ্চিম চীনে ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে চাপা পড়েছে অন্তত ১০টি আবাসিক ভবন। যদিও ধসের সময় সেখানে কতজন মানুষ ছিলো সে সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি। দুর্ঘটনার পরপরই বিশেষজ্ঞ দলসহ ১২০ জনকে উদ্ধার অভিযানে পাঠানো হয়েছে। ধসের পর বিপজ্জনক শিলাখণ্ডগুলো এখনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা অতিবৃষ্টিতে খসে পড়ার আশঙ্কা আছে। তাই স্লোপ রাডার সিস্টেম ব্যবহার করে এক্সকাভেটরের সহায়তায় উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছেন জরুরি সেবায় নিয়োজিতরা।





