প্রথমে সাত দশমিক সাত, এরপর ছয় দশমিক ছয় মাত্রা- পরপর দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্পে এভাবেই কেঁপে ওঠে লাতিন আমেরিকার দেশ পানামা। উৎসস্থলের কাছে ধসে পড়ে কয়েকটি ভবন। কম্পনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ছোটাছুটি পড়ে যায় পুরো দেশে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকালে, দক্ষিণ প্রান্তে, হেরেরা প্রদেশের প্রত্যন্ত পিতালোজা আরিবার দক্ষিণপশ্চিমে, ভূপৃষ্ঠের সাড়ে মাত্র ১২ কিলোমিটার গভীরে ছিল কম্পনটির উৎস। সাধারণত ৭০ কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত সৃষ্ট কম্পনকে মারাত্মক বিপজ্জনক এবং ধ্বংসাত্মক ধরা হলেও, এ ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর মেলেনি। কয়েকটি ছোট ছোট ভবন ধসেই সীমিত ক্ষয়ক্ষতি।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘এত এত তীব্রভাবে কাঁপুনিটা অনুভব করেছি, তার ওপর সবকিছু নড়ছিল, চেয়ার, টেবিল, ঝুলন্ত বাতি। সিঁড়ি দিয়ে নামাও ঝুঁকিপূর্ণ বলে শান্ত থেকে ভেতরেই অপেক্ষা করেছি, কম্পন থামার অপেক্ষায় ছিলাম।’
আরও পড়ুন:
জোড়া ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অনুভূত হয় আরও প্রায় অর্ধশত কম্পন। তীব্রভাবে কেঁপেছে রাজধানী পানামা সিটিও। তাই পূর্বসতর্কতা হিসেবে দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট রাউল মুলিনো। প্রধান বিমানবন্দরে ফ্লাইটের ওঠানামা বন্ধ ছিল অল্প সময়ের জন্য। তবে এখনও জারি আছে সুনামি সতর্কতা।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘সময়টা অনেক দীর্ঘ মনে হচ্ছিলো। মানুষজন দৌড়াচ্ছিলো, চিৎকার করছিলো। সবার প্রতিক্রিয়া তো আর একরকম হবে না। পরে আমরাও নিচে নেমে আসি।’
৪৬ লাখ জনগোষ্ঠীর প্রতিটি মানুষ তো বটেই, কম্পনের তীব্রতা টের পেয়েছে প্রতিবেশী কলম্বিয়াও। গেলো আগস্টেই দেশটিতে সাড়ে সাত মাত্রার ভূমিকম্পে প্রাণ যায় প্রায় ৩শ’ মানুষের। এর আগে জুনে ভূমিকম্পে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর সাক্ষী হয় পানামার আরেক আঞ্চলিক প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলা।





