অস্ট্রেলিয়ার ১৫ বছর বয়সী দুই কিশোরী—অ্যানি ওয়াং এবং নোভা টলসন। আইন থাকা সত্ত্বেও তারা এখনও স্বাচ্ছন্দ্যে ইন্সটাগ্রাম, টিকটক ও ইউটিউব ব্যবহার করে যাচ্ছেন।
অ্যানি জানান, অ্যাকাউন্ট খোলার সময় যখন তার বয়স যাচাই করতে বলা হয়, তখন তিনি তার মাকে দিয়ে ফটো-ভিত্তিক ভেরিফিকেশন করিয়ে নেন। মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই তার অ্যাকাউন্ট খুলে যায়।
অ্যানি বলেন, ‘এটা এক ধরনের বোকামি। কারণ এসব বিধিনিষেধ এড়িয়ে যাওয়ার উপায় খুবই সহজ, তাহলে এগুলো আরোপ করার আসল উদ্দেশ্যটা কী?’
নোভা টলসন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষেধাজ্ঞার পর থেকে বর্তমানে যে অ্যাপগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে সেগুলোতে বয়স যাচাইয়ের জন্য একবারও বলা হয়নি।’
আরও পড়ুন:
শুধু এসব কিশোরীরাই নয় গবেষণা বলছে, অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের নিচে যত কিশোর রয়েছে, তাদের বেশিরভাগই এখনও স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক ও ইন্সটাগ্রাম সক্রিয়। বরং আইনটি তাদের অনলাইন জীবনকে কোনোভাবেই থামাতে পারেনি।
এদিকে এই নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত দিক থেকেও বড় ত্রুটি খুঁজে পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গত বছর সফটওয়্যার টেস্টিং প্রতিষ্ঠান কেজেআর এক হাজারের বেশি অস্ট্রেলিয়ানের ওপর বয়স যাচাইকরণ সফটওয়্যার পরীক্ষা করে। কিন্তু আইন কার্যকরের পর তারা নতুন যে ৫০টি অ্যাকাউন্ট খুলেছিল, তার কোনোটি থেকেই প্ল্যাটফর্মগুলো বয়সের প্রমাণ চায়নি।
এএটিটি’র উপ-প্রকল্প পরিচালক অ্যান্ড্রু হ্যামন্ড বলেন, ‘নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করা বেশ সহজ বলে মনে হয়। আবার এ সংক্রান্ত গবেষণার আরেকটি অংশ থেকে জানা যায় যে, বিদ্যমান অ্যাকাউন্টগুলো ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করার পর তাদের অ্যাকাউন্টগুলো নিষ্ক্রিয় করে না।’
এদিকে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আসক্তি তৈরির শঙ্কায় মাঝরাতের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে কারফিউ জারির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। অর্থাৎ ইন্সটাগ্রাম, টিকটক এবং ইউটিউবের মতো অ্যাপগুলো মধ্যরাত থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের জন্য ডিফল্টরূপে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ থাকবে। তবে ব্যবহারকারী চাইলে এসব সেটিং পরিবর্তন করতে পারবেন। ফলে এ উদ্যোগ খুব একটা কাজে আসবে না বলছেন সমালোচকরা।





