ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ৫৮৯

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্প
দক্ষিণ আমেরিকা
বিদেশে এখন
0

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়ে ৫৮৯ জনে পৌঁছেছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৭ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ও অন্যভাবে আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৮০ জনে। দেশের এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।

আজ (শুক্রবার, ২৬ জুন) বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে সরকারি তথ্যে ২৩৫ জনের মৃত্যু এবং ৪ হাজার ৩০০ জন আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

ভেনেজুয়েলার প্রাণকেন্দ্র ও রাজধানী কারাকাসের রূপ পাল্টে গেছে মাত্র ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে। প্রথমে ৭.২ এবং এর পরপরই ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ধাক্কায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে পুরো রাজধানী। ধসে গেছে শত শত বহুতল ভবন।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে জানিয়েছে, এই মারাত্মক দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ৪৪ শতাংশ এবং এক লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা অন্তত ৩০ শতাংশ রয়েছে।

ভূমিকম্পের পর দেশটিতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে কারাকাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ট্রেন ও মেট্রো পরিষেবা। এছাড়া এই সপ্তাহের বাকি দিনগুলোর জন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত ১৭ জন বিদেশি নাগরিকের মধ্যে পর্তুগালের ৯ জন, স্পেনের ৩ জন, ব্রাজিলের ২ জন, চীনের ২ জন ও ইতালির ১ জন রয়েছেন।

আরও পড়ুন

পর্তুগালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর থেকে তাদের আরও ৫৬ জন নাগরিক নিখোঁজ বা যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।

স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখনো তাদের ৯৯ জন নাগরিকের খোঁজ পাওয়া যায়নি এবং অন্তত ৪ জন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন।

কারাকাসে অবস্থিত চীনা দূতাবাস তাদের দুই নাগরিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে ভেনেজুয়েলায় থাকা বাকি চীনা নাগরিকদের আফটারশক ও সম্ভাব্য দ্বিতীয় পর্যায়ের দুর্যোগ সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার লা গুয়াইরা এলাকায় একটি ভবন ধসে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন, যার ইতালি ও ভেনেজুয়েলা—উভয় দেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল।

দেশের এই চরম সংকটময় মুহূর্তে এক বিবৃতিতে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ বলেন, ‘আমাদের জনগণের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এই মুহূর্তে, যারা দুর্ভাগ্যবশত পরিবারের কোনো সদস্যকে হারিয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আমরা জনগণের কাছে সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করছি। যেসব বাড়ির কাঠামোগত গুরুতর ক্ষতি হয়েছে, সেগুলো অবশ্যই দ্রুত খালি করতে হবে। এই মুহূর্তে সবার নিরাপত্তায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।’

এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে উদ্ধার অভিযান ও অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়া ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধার কাজে সমন্বয়ের জন্য এরই মধ্যে রেডক্রস ও জাতিসংঘের বিশেষ দল মাঠে নেমেছে।

ভেনেজুয়েলাকে সহায়তায় স্পেন ৮টি বিশেষ উদ্ধারকারী দল পাঠানোর পাশাপাশি রেডক্রসের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ১১ লাখ ডলার আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। এছাড়া ভেনেজুয়েলায় জরুরি উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কলম্বিয়া, ভারত ও চিলিসহ বেশ কিছু বন্ধুভাবাপন্ন দেশ।

জেআর