মহল্লার গলিপথ বা নগরের প্রশস্ত মোড়, রাজশাহীর অধিকাংশ সবজি ও কাঁচাবাজার বসছে পথ আগলে। মাস্টারপাড়া, হরগ্ৰাম, লক্ষ্মীপুর কিংবা হাদীর মোড়—বাজারে ভোগান্তি পথচারী এবং ব্যবসায়ী উভয়ের।
বিক্রেতাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘১৬-১৭ বছর আগে এই বাজারটা তৈরি হয়েছে ভাই। একজন দুজন শাকওয়ালা, তারপরেও ওই সবজিওয়ালা একজন দুজন আস্তে করতে করতে এই বিক্রি আইছে।’
অন্য একজন বলেন, ‘রাস্তা তো হয়ে গেছে, জায়গাও নাই। ভালো জায়গা হলে আরও ভালো হতো। এখানে বাথরুমের ব্যবস্থা নাই, পেশাব করার ব্যবস্থা নাই।’
প্রশস্ত পথের সুন্দর নগরে বিমানান বাজারঘাট। ভর দুপুরেও দিনের আলোর অভাব সাহেববাজার সবজিপট্টিতে। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে মাছ, মাংস, সবজির উচ্ছিষ্টে ভরা চারপাশ। বাজারঘরের দেয়াল ফেটে বেরিয়েছে গাছগাছা, খোসে পড়ছে পলেস্তারা। কোনো বাজারে নষ্ট হচ্ছে টিনের চালা, গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট পরিণত হচ্ছে গোডাউনে। এর মাঝেই অনেক অস্বস্তি নিয়ে আছেন ব্যবসায়ীরা।
ক্রেতাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘বৃষ্টি হলে বাজারে ঢোকা যায় না। ভালো মানুষরা, যারা মহিলারা আসছে একটু ইয়ে করে, পানি জমে যায় বাজারে, হ্যাঁ, বৃষ্টি-টিষ্টি হয়ে গেলে হেভি সমস্যা।’
বিক্রেতাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘ভেঙে পইড়ে যায়, ঠিক নাই। মাঝে মাঝে আপনার সিমেন্টের চটা-টটা সব পড়ে মাথাতে। মাঝে মাঝে ভাঙছে, মাঝে মাঝে পড়ছে। আর ওইপাশে দেখেন একবারে ওই বিম শেষ।’
নগরজুড়ে সিটি করপোরেশনের নতুন-পুরাতন ২২টি মার্কেট। তাতে রাজস্ব আদায় হলেও যত্নের অভাব স্পষ্ট। তাই প্রায় ১১ লাখ নাগরিকের ভোগান্তি কমাতে আধুনিক মার্কেট গড়ার পরামর্শ দিচ্ছেন নাগরিক সংগঠনের নেতারা।
রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খাঁন বলেন, ‘সরকারের যেসব খাস জমি আছে, সেইগুলো নিয়ে কিন্তু আমরা আধুনিক মার্কেট করতে পারি। সেখানে সমস্যা হওয়ার কথা নাই। আর যেহেতু আমরা সিটি করপোরেশনকে ট্যাক্স দিচ্ছি, তো এখানে তো মনে করেন বাধা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
জায়গার অভাবে পথ থেকে সরানো যাচ্ছে না কাঁচাবাজার। তবে জমি অধিগ্রহণ করে সাহেববাজারসহ বাজারগুলো আধুনিক করতে পরিকল্পনা নেয়ার কথা জানান নগর প্রশাসক।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘এই বাজারগুলোতে আমরা চেষ্টা করছি একটা ডিসিপ্লিনে নিয়ে এসে যত্রতত্র যেখানে সেখানে না বসে একটা নির্দিষ্ট স্থানে তারা যেন বসতে পারে, সেটি আমরা খুঁজছি। যেমন দেখেন বড়কুটির পাশে আমাদের কিছু জায়গা আছে, সেগুলো আমাদের কাছে এখনও হ্যান্ডওভার দেয় নাই। আমরা কাজগুলো পেলে আমরা কাজ শুরু করবো।’
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের অধীনস্থ একটি হাট ও পথের ওপর বসছে এমন বাজারের সংখ্যা সাতটি, যা থেকে সিটি কর্পোরেশনের আয় অন্তত ১২ কোটি টাকা।





