সরকারের ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার পথ বন্ধ করতেই এ গণভোট: আলী রীয়াজ

‘আসন্ন গণভোট এবং এনজিওসমূহের করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালা
দেশে এখন
1

ভবিষ্যতে যারা এ দেশ পরিচালনা করবেন, তারা যেন আর কখনোই ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারেন তা নিশ্চিত করতেই এবারের গণভোট— এ কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। আজ (বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি) ঢাকায় এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সম্মেলন কক্ষে ‘আসন্ন গণভোট এবং এনজিওগুলোর করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান আলোচকের বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. দাউদ মিয়ার সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার এবং সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।

আসন্ন গণভোটে সরকারের পক্ষ থেকে প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

তিনি বলেন, ‘যারা দেশ চালান, আমাদের বিদ্যমান ত্রুটিপূর্ণ সাংবিধানিক এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্যই তারা ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার সুযোগ পান। আসন্ন গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটকে জয়ী করে তাদের এ ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার পথ বন্ধ করতে হবে।’

গণভোট আসলে কী বা কেন?- এ নিয়ে কোনো সংশয়ের অবকাশ নেই বলে জানান আলী রীয়াজ। বলেন, ‘অন্য সব সাধারণ নির্বাচনের মতোই হবে গণভোট, তবে গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সিদ্ধান্ত দেবে যে, আগামীর বাংলাদেশ কীভাবে চলবে। আসন্ন নির্বাচনে সব ভোটার ভোটকেন্দ্রে দুইটি ব্যালট পাবেন যার মধ্যে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ব্যালটটি হবে সাদা ও গণভোটের ব্যালটটি হবে রঙ্গিন।

গণভোটের বিষয়ে জনমত সৃষ্টি ও সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সবার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও বিগত সরকারের সময়ে যারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাণ দিয়েছেন, নিপীড়িত-নির্যাতিত হয়ে হাসপাতালে ধুঁকছেন, আত্মদানের মধ্য দিয়ে তারা এ দায়িত্ব আমাদের দিয়ে গেছেন।’

আরও পড়ুন:

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, ‘আমাদের সব থেকে বড় সংকটগুলোর একটা হলো রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব। গণভোটের জনগণের সম্মতির মধ্য দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পথ আরও সুগম হবে।’

এসময় স্বাধীন বাংলাদেশ পুনর্গঠন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভগ্যোন্নয়ন এবং সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সংকটে এনজিও এবং উন্নয়নকর্মীদের অবদানের কথা স্মরণ করেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ। বলেন, ‘আপনাদের ওপর মানুষ আস্থা রাখেন, তাই প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষকে গণভোটের বিষয়ে সচেতন করতে আপনারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।’

কর্মশালার বিশেষ আলোচক মনির হায়দার বলেন, ‘পাকিস্তানি শাসনামলে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিলো।’

মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন ছিলো এমন একটি দেশ যেখানে নাগরিকদের অধিকার সমুন্নত থাকবে উল্লেখ করে মনির হায়দার বলেন, ‘যদি গণভোটে মাধ্যমে আমরা কাঙ্ক্ষিত সংস্কার করতে পারি তাহলে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুন্দর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার পথ সুগম হবে। অন্যথায় দেশ আবার ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।’

আরও পড়ুন:

তিনি বলেন, ‘জনগণ যদি হ্যাঁ-ভোট দিয়ে সংস্কারের পক্ষে রায় দেয় তাহলে একটি কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠা পাবে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আসবে, বিচার বিভাগের সংস্কার ও বিকেন্দ্রীকরণের পাশাপাশি দেশ পরিচালনার সব ক্ষেত্রে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি পাবে।’

বদিউল আলম মজুমদার কর্মশালায় সুজনের পক্ষ থেকে ‘গণভোট কী ও কেন?’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা তুলে ধরে জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত সংস্কার ও গণভোট সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনা করেন।

এসময় উপস্থিত এনজিওগুলোর ৫০ থেকে ৬০ লাখ প্রত্যক্ষ উপকারভোগী, তাদের পরিবার ও পরোক্ষ উপকারভোগীদের মধ্যে গণভোট বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে এনিজওগুলো ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলে জানান ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. দাউদ মিয়া।

এসএস