যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যমুখী ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা প্রায় অর্ধশত। গতকাল (মঙ্গলবার, ৩ মার্চ) পর্যন্ত বন্ধ ছিলো কাতার, কুয়েত, আরব আমিরাত ও বাহরাইনমুখী ফ্লাইট চলাচল। যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে গেছে অনেকের। ভোলার মোহাম্মদ শামীম তাদের একজন। কাতার যাবার কথা থাকলেও ফ্লাইট বাতিল হওয়ার কারণে যেতে পারেননি।
মোহাম্মদ শামীম বলেন, ‘আমরা ফ্লাইট ছিলো ১ তারিখে। যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আবেদনের জন্য আমার আসা।’
ফ্লাইট বাতিল হওয়া যাত্রীদের কারও কারও ভিসার মেয়াদ সন্নিকটে। এমন প্রবাসী কর্মীদের জন্য সেবা নিশ্চিতে তৎপর রয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। গঠন করা হয়েছে চার সদস্যের কমিটি। ফ্লাইট বাতিল ও ভিসা জটিলতা সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগও গ্রহণ করছে মন্ত্রণালয়।
আরও পড়ুন:
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া বলেন, ‘অধিকাংশ প্রবাসীরা ১ থেকে ২ দুইদিনের ভিসার মেয়াদ বাকি থাকতে তারা বিভিন্ন দেশে যান। তাই বর্তমানে অনেকে সমস্যায় পরে গিয়েছে। আমরা যে আবেদনগুলো পাচ্ছি তা আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবো। মন্ত্রণালয় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কথা বলে তাদেরকে পাঠানো ব্যবস্থা করবে।’
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জানান, যাদের ভিসার মেয়াদ সন্নিকটে বা মেয়াদ শেষ হয়ে যেতে পারে, সেসব কর্মীদের ব্যাপারে বিবেচনা করতে দূতাবাসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণায়সহ আমরা আলাপ আলোচনা করেছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর বাংলাদেশে অবস্থারত রাষ্ট্রদূতদের ডেকে বিষয়গুলো বলেছে। পাশাপাশি আমাদের রাষ্ট্রদূতদেরও বলা হয়েছে ভিসার বিষয়গুলো যেন সমাধানে কাজ করে।’
এদিকে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রবাসী কল সেন্টারের মাধ্যমে ফ্লাইট সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য সেবা প্রদান সচল রেখেছে মন্ত্রণালয়। দুই দিনে প্রায় দুই শতাধিক যাত্রী তাদের সমস্যা জানিয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতগামী যাত্রী।
অন্যদিকে মন্ত্রণালয় জানায়, ছুটিতে এসে আটকে থাকা আরব আমিরাত প্রবাসীদের কারও ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তারা ফ্লাইট চালুর পরবর্তী সময় ঢাকায় আরব আমিরাতের দূতাবাস থেকে ১৫-২০ দিনের ট্রাভেল পার্মিট নিতে পারবেন।





