ঈদে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক হয়ে বাড়ি ফিরবে উত্তরাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষ। এতে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপসহ নানা কারণে যানজটে চরম ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে। গত নির্বাচনের ছুটিতেও এ মহাসড়কে অন্তত ২০ কিলোমিটার এলাকায় যানজট হয়েছিলো।
এদিকে, দুই দফা মেয়াদ বাড়িয়েও এলেঙ্গা ফ্লাইওভারের কাজ ৩০ শতাংশও শেষ হয়নি। মহাসড়ক ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, প্রকল্পের টাঙ্গাইল অংশের কাজ শেষ না হওয়ায় ঈদে যানজটে চরম ভোগান্তি হতে পারে।
যাত্রীরা জানান, যমুনার এদিকে এখনো কাজ শেষ হয়নি। কাজ চলছে এজন্য যানজট তৈরি হচ্ছে বলে জানান তারা। কাজ বন্ধ না রেখে দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানান যাত্রীরা।
ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল ও এলোমেলো গাড়ি চালানোর কারণে যানজটে হতে পারে বলে জানালেন এ রুটে চলাচলকারী চালকরা।
যানবাহন চালকদের একজন বলেন, ‘যানজট লাগে আমাদের নিজেদের কারণেই। আমরা নিজেরাই এলোপাতাড়িভাবে চালায় যার কারণে যানজট লেগে যায়।’
এলেঙ্গা ঠিকাদার কর্তৃপক্ষ বলছে, বিকল্প সড়ক তৈরি থাকায় মহাসড়কে কোনো যানজট হবে না। অপরদিকে সেতু কর্তৃপক্ষের দাবি, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সামাল দিতে আলাদা মোটরসাইকেল লেনসহ ৬টা বুথ বাড়ানো হয়েছে।
আব্দুল মোনায়েম লিমিটেড প্রকল্প ব্যবস্থাপক রবিউল আওয়াল বলেন, ‘প্রায় দুই তিন লেনের মতো জায়গা আমাদের ফ্রি আছে। আমরা আশা করছি ঈদে উত্তরঙ্গের মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে।’
আরও পড়ুন:
যমুনা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘সাধারণত আমরা সাতটি টোলবুথ চালু রাখি, এ সময় আমরা নয়টি টোলবুথ চালু রেখেছি। বিশেষভাবে মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা দুইটি টোলবুথ চালু থাকবে।’
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নানা উদ্যোগ নেয়ার কথা জানালেন পুলিশ সুপার।
টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, ‘এবার ঈদে যেন যানজট সৃষ্টি না হয়, এজন্য আমাদের জেলা পুলিশের থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এখানে প্রায় ১ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। তারা ২৪ ঘণ্টাই ডিউটি করবে।’
এলেঙ্গা ফ্লাইওভারসহ মহাসড়কের ৫০ শতাংশ কাজ শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। মহাসড়ক ব্যবহারকারীরা বলছেন, কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অবহেলা আর ঠিকাদারের গাফিলতিতে কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়েও কাজ শেষ হয়নি। যে কারণে আসন্ন ঈদে মহাসড়কে যানজটে মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে। তাই দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি মহাসড়ক ব্যবহারকারীদের।





