সরকার জ্বালানির মজুত পর্যাপ্ত বললেও মাঠ পর্যায়ে ভোগান্তি, সাশ্রয়ী ব্যবহারের ওপর জোর

পাম্পে তেলের জন্য লম্বা লাইন
দেশে এখন
0

মাঠ পর্যায়ে দীর্ঘ লাইন আর ভোগান্তি থাকলেও সরকার বলছে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক আছে। তবে প্যানিক বাইং আর গুজবই পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এমন বাস্তবতায়, আতঙ্ক নয় সচেতন ও সাশ্রয়ী ব্যবহারের ওপরই এখন জোর দিচ্ছে সরকার।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব পড়েছে দেশের জ্বালানি খাতেও। তেল ফুরিয়ে যাচ্ছে এমন আশঙ্কায় বাড়ছে অপেক্ষা আর উদ্বেগ। সরকার বলছে সংকট নেই। তবে বাস্তবে সীমিত সরবরাহ আর দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তি বাড়ছেই।

গ্রাহকরা বলছেন, যে পরিমাণ জ্বালানি দেয়া হচ্ছে তাতে আসা যাওয়ার পথেই তা শেষ হয়ে যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই গুজব ছড়ালেও আপাতত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি সরকার। ভর্তুকি দিয়ে এপ্রিলেও অপরিবর্তিত দাম। টানা দ্বিতীয় মাস একই দামে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল। বিদ্যুৎ, জ্বালানি মন্ত্রণালয় বলছে দেশে প্রায় দুই মাসের জ্বালানি মজুত রয়েছে, তাই আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘অকটেন এবং পেট্রোল আজকের দিনে যেটা আছে তাতে আগামী দুই মাসে আমাদের কোনো সংকট নেই। তাহলে তো প্যানিক হওয়ার কোনো কারণ নেই। সাধারণত একটা দেশে ১৫ দিন বা এক মাসের বেশি রিজার্ভ থাকে না। আমি বলছি প্যানিক হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ আমাদের যে সমস্ত সাপ্লাই চেইন আছে তা সবই ঠিক আছে। কোনো অসুবিধা নেই।’

আরও পড়ুন:

সরকার বলছে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে, তবে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রয়েছে সব ধরনের প্রস্তুতি। এরই মধ্যে নতুন চালান আসছে, আর বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আনার চেষ্টাও জোরদার করা হয়েছে।

মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, চায়না, সিঙ্গাপুর এসব উৎস থেকে আমরা রিফাইন্ড আনি। এর বাইরে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতেও আমরা সোর্স হিসাবে চিন্তা করছি। যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। এর বাইরে আমেরিকার সাথে আমাদের একটা এমওএ হতে যাচ্ছে, রাশিয়া থেকেও আনার সুযোগ আছে। ফলে সবগুলো সোর্সই আমাদের কনসিডারেশনে আছে।’

তবুও পাম্পে দীর্ঘ লাইন আর উত্তেজনা বলছে ভিন্ন কথা। অবৈধ মজুত ঠেকাতে চলছে অভিযান। করা হচ্ছে জরিমানা।

বারবার সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত মজুতের কথা বলা হলেও মাঠের চিত্র ভিন্ন। প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে এই দীর্ঘ লাইন কি গুজবের ফল,নাকি সামনে বড় কোনো সংকটের ইঙ্গিত?

ইএ