জ্বালানি সংকটে অর্ধেক মাছ সরবরাহ; চট্টগ্রাম-বরগুনায় ট্রলার চলাচল ব্যাহত

শাহনুর শাকিব
ঢাকা
বেকার সময় পার করছেন জেলেরা
দেশে এখন
1

জ্বালানি তেলের সংকটে সাগরে যেতে পারছে না অধিকাংশ মাছধরা ট্রলার। ফলে দেশের বৃহৎ পাইকারি মাছের বাজার চট্টগ্রামের ফিশারিঘাটে মাছের সরবরাহ অর্ধেকে নেমে এসেছে। ট্রলার মালিকরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক জ্বালানি পাওয়ায় অনেক ট্রলারই সাগরে যেতে পারছে না। একই চিত্র দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পাথরঘাটা বিএসসি ঘাটেও। ডিজেল সংকটে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে সেখানে মাছ অবতরণ কার্যক্রম।

জ্বালানি সংকটের কারণে বঙ্গোপসাগরে যেতে না পেরে অনেক মৎস্যজীবী অলস সময় কাটাচ্ছেন, যা তাদের জীবিকায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। এদিকে, সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজধানীর বাজারে মাছের দামও বেড়েছে। বড় আকারের ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৫০০ টাকারও বেশি দরে।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর পাড়ে লুডু খেলায় ব্যস্ত মৎস্যজীবীরা। কাজ নেই, তাই অলস সময়ে লুডু খেলে সময় পার করছেন তারা। অথচ প্রতিবছর এসময় দেশের বৃহৎ পাইকারি বাজার ফিশারিঘাটে দম ফেলার সময় থাকে না কারো।

জেলেরা জানান, তেল সংকটে সাগরে ট্রলার যেতে না পারায় বাজারে মাছের সরবরাহ কমেছে অর্ধেকে। কাজ আর মজুরিও কমেছে সমানতালে।

বসে থাকা জেলেদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এখন আমরা তো আর বেশি তেল নিতে পারি না। তেলের দাম বাড়তি।’

ট্রলার মালিকরা জানান, জ্বালানি সংকটে চাহিদার অর্ধেক তেল পাচ্ছেন তারা, তাও দাম বাড়তি। ফলে, সাগর থেকে ১০-১২ দিনের বদলে ৫-৬ দিনেই ফেরত আসছে হচ্ছে। এতে মাছের সরবরাহ কমায় বাজারে বাড়ছে দাম।

আরও পড়ুন:

জেলেদের মধ্যে একজন বলেন, ‘সরকার বলছে, তেল আছে। এখন পাম্প থেকে তো তেল বন্ধ করে রাখছে, তেল দিচ্ছে না। তারপরও সেনাবাহিনীর একটা পাম্প আছে, ওখানে ১০ লিটার করে তেল দিচ্ছে, সেটা দিয়ে আমাদের হয় না।’

মৎস্য অধিদপ্তরের হিসেবে, সবশেষ অর্থবছরে দেশে ৯১ হাজার টন মাছ ও মৎস্যদ্রব্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৬ হাজার ১০০ কোটি টাকা। সংকট বাড়লে এর প্রভাব পড়বে রপ্তানি আয়েও।

এদিকে ডিজেল সংকটে বিপর্যস্ত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পাথরঘাটা বিএসসি ঘাট। তেল সংকটে বঙ্গোপসাগরে যেতে পারছে না এই অঞ্চলের কয়েক হাজার ট্রলার। ফলে মাছের সংকটে প্রভাব পড়েছে মাছের দামে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে তীব্র ডিজেল সংকটের কারণে কয়েকশো মাছ ধরার ট্রলার সমুদ্রে যেতে পারছে না। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এই উপকূলের হাজারো জেলে ও ট্রলার মালিকরা। সপ্তাহে যেখানে এক থেকে দেড় লাখ লিটার ডিজেল প্রয়োজন, সেখানে সরবরাহ মিলছে মাত্র ছয় হাজার লিটার।

আরও পড়ুন:

মজুমদার ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, ‘ক্রেতা সাধারণ চাহিদামতো তেল পাচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা মনিটরিং করছে।’

এদিকে, রাজধানীর কাঁচাবাজারে চলছে অস্থিরতা। মাছ থেকে শুরু করে সবজি, সব নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। ফলে দরদাম করে অনেককেই দেখা গেল খালি হাতে ফিরে যেতে।

এছাড়া পহেলা বৈশাখের বাকি আরও প্রায় ১০ দিন। তার আগেই ইলিশের দাম আকাশছোঁয়া। বড় আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৫০০ টাকারও বেশি কেজি দরে।

এসএস