সংবিধান সংস্কারে অনিশ্চয়তা; আন্দোলনের প্রস্তুতি জামায়াত জোটের

সংসদ অধিবেশনে ১১ দলীয় জোট
দেশে এখন
0

গণভোটে 'হ্যাঁ' বিজয়ের পরও সংবিধান সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন নিয়ে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। এখনও গঠন হয়নি সংবিধান সংস্কার পরিষদ। এমন পরিস্থিতিতে সংসদের বাইরে রাজপথকেই বেছে নিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। এরই মধ্যে মাসব্যাপী কর্মসূচি শেষ করে বিভাগীয় শহরে মহাসমাবেশ করে কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত জোট।

সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে, সংসদের ভেতরে দাবি তোলা, মুলতবি প্রস্তাব আর ওয়াকআউট‌ সব পথই এরই মধ্যে শেষ করেছে জামায়াত জোট। তবে, তাতে প্রত্যাশিত ফল না মেলায় এবার দীর্ঘমেয়াদে আন্দোলনের পথে হাঁটছে তারা। মাসব্যাপী কর্মসূচি শেষ করে এখন প্রস্তুতি চলছে নতুন ধাপের আন্দোলনে নামার। বিভাগীয় শহরগুলোতে মহাসমাবেশ দিয়ে শুরু হবে এ কর্মসূচি, যার লক্ষ্য গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা।

এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত মাঠ থেকে সরবে না ১১ দলীয় জোট। আর এ লক্ষ্য অর্জনে সভা, সেমিনারের পাশাপাশি জনগণকে সম্পৃক্ত করার কথা বললেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

আরও পড়ুন

এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ‘দেশেরে ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছে। বিএনপি যে প্রতারণা করছে তা মানুষ বোঝে। আর এ বর্তাটিই আমরা ঘরে ঘরে পৌছে দিতে চাই। ধীরে ধীরে রাজপথে গড়াবে। যার ফলে বিএনপির দেশে পরিচালনা করতে কঠিন হয়ে পরবে।’

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘সংসদে বিরোধী দলে কাজ হলো দুইটি, এক সরকার দলের ভুলত্রুটিগুলো ধরা আর জবাবদিহিতা চাওয়া। আর দুই হলো, এ বিষয়গুলো নিয়ে জনগণের কাছে যাওয়া। জনগণকে সচেতন করার জন্য কাজ করা।’

এদিকে, গণরায় না মানলে বিএনপিকে চূড়ান্ত পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন জামায়াতে ইসলামির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, ‘ঢাকায় মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত আন্দোলনে যাবে জামাতে নেতৃত্বে ১১ দলীয় ঐক্য।’

জামায়াতে ইসলামির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, ‘গণভোটে যেটা পাশ হয়েছে তা পুরোটাই বাস্তবায়ন করা লাগবে। আংশিক করার কোনো সুযোগ নাই। এ বিষয়ে সভা সেমিনার করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।’

বিরোধী দলের নেতাদের আশা, শেষ পর্যন্ত তাদের দাবি মানতে বাধ্য হবে সরকারি দল। এর অন্যথায় হলে, কঠিন কিছুর জন্যই অপেক্ষা করতে হবে বিএনপিকে।

জেআর