সারা দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে হামের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এমনকি বিশেষায়িত হাম ওয়ার্ড চালুর কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তবে রাজধানীর মহাখালীতে ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতালের চিত্র বলছে ভিন্ন বাস্তবতার কথা। কোলে জ্বরাক্রান্ত শিশু, চোখে আতঙ্ক আর দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় ছুটে আসছেন অভিভাবকেরা। তাদের অভিযোগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না থাকায় বাধ্য হয়েই রাজধানীমুখী হতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন চিকিৎসা পেতে দেরি হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও।
রোগীর স্বজনরা জানান, দেশের চিকিৎসার কোনো উন্নতির দিকে দেখছেন না তারা। আর সর্দি কাশিতে ভুগার কথাও বলেন তারা।
আরও পড়ুন
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, এখানে ভর্তি হওয়া প্রায় ৭০ শতাংশ রোগীই ঢাকার বাইরের। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিশুরা দেরিতে হাসপাতালে আসছে। যেখানে অনেক শিশুই এখনো টিকার আওতার বাইরে।
মহাখালী ডিএনসিসি হাসপাতালের এডমিন অফিসার ডা. আসিফ হায়দার বলেন, ‘বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাচ্চাগুলো দেখা যাচ্ছে হয়তো খেতে পারছে না। ডিহাইড্রেটেড থাকছে বাচ্চাগুলো, একদমই খেতে পারছে না। সাথে হয়তো সর্দি, কাশি, কারোর শ্বাসকষ্টও থাকছে। ঢাকার ভেতর থেকে যে রোগীগুলো আসছে সেগুলো মোটামুটি আমাদের আর্লি আসতে পারছে, বাট ঢাকার বাইরে থেকে যে রোগীগুলো আসছে তারা বেশিরভাগই দেখা যাচ্ছে একটু দেরিতেই আসছে আমাদের কাছে।’
চিকিৎসকরা আরও বলছেন, টিকা নেওয়া থাকলেও অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই শিশুদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
ডিএনসিসি হাসপাতালের এডমিন অফিসার ডা. আসিফ হায়দার বলেন, ‘একটি বাচ্চাকে টিকা নেয়ার পরে তার শরীরে ইমিউনিটি তৈরি হতে সময় লাগে তিন থেকে চার সপ্তাহ বা তারও বেশি লাগতে পারে। কিন্তু সেটা কতটুকু করবে, কতটুকু সময়ের মধ্যে এটা হবে এবং কত পার্সেন্ট মানে কতটুক মাত্রায় এটা হবে তা কিন্তু অনেক ফ্যাক্টরের ওপর ডিপেন্ড করে। এর মধ্যে সবচাইতে ইম্পর্টেন্ট ফ্যাক্টর হচ্ছে তার পুষ্টি। পুষ্টিহীন; যদি বাচ্চাটি অপুষ্টিতে থাকে তাহলে সেই বাচ্চাটির কিন্তু একটি টিকা দেয়ার পরেও তার যে কাঙ্ক্ষিত যে ইমিউনিটিটা, প্রোটেকশনটা পাওয়ার কথা, সেই প্রোটেকশনটা কিন্তু তৈরি নাও হতে পারে।’
ডিএনসিসি হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১০৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এ সময়ে একজন শিশুর মৃত্যুও হয়েছে।





