ঢাকার লেকগুলোকে পরিচ্ছন্ন ও পানি প্রবাহ সচল রাখতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি

মতবিনিময় সভা
দেশে এখন
0

গুলশান, বনানীসহ ঢাকার লেকগুলোকে পরিচ্ছন্ন ও পানি প্রবাহ সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

আজ (রোববার, ১৭ মে) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা মহানগরের জলাবদ্ধতা নিরসন, লেক ও খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পানি প্রবাহ সচল রাখা এবং সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভায় কমিটি গঠনের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘লেকগুলোর সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিচ্ছন্নতার জন্য স্বল্পমেয়াদী, মধ্যমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।’ মীর শাহে আলম বলেন, ‘আগামী ছয় মাসের মধ্যেই রাজধানীর লেক ও খাল ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাবে। আসন্ন ডেঙ্গু মৌসুমকে সামনে রেখে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে।‘ এ কাজে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণে প্রস্তুত।’ সোসাইটিগুলোর প্রতিনিধিদের সিটি করপোরেশন ও রাজউকের সঙ্গে সমন্বয় করে নিজ নিজ এলাকার কর্মপরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার একটি প্রতিবন্ধীবান্ধব দেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশের সকল অবকাঠামোতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অবাধ প্রবেশাধিকার ও চলাচল নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সিটি করপোরেশন এলাকায় অবস্থিত সব রেস্তোরাঁ, আবাসিক হোটেল ও ক্যাফেতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য র‌্যাম্প ও আলাদা টয়লেট স্থাপনকে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। সরকারের নির্দেশনা অনুসারে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব সুবিধা স্থাপন না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করা হবে অথবা নবায়ন বন্ধ রাখা হবে।’

এছাড়া তিনি বাণিজ্যিক কোনো স্থাপনা নির্মাণে সিটি করপোরেশনকে সংশ্লিষ্ট সোসাইটি থেকে অনাপত্তি পত্র নেওয়ার পরামর্শ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আয়োজিত এ সভায় ঢাকা মহানগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, লেক ও খাল পরিষ্কার, পানি প্রবাহ সচল রাখা, যানজট নিরসন এবং বর্ষার আগেই জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে নগর পরিবেশ উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণেও গুরুত্বারোপ করা হয়।

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব আব্দুর রহমান সানী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবসহ রাজউক-এর চেয়ারম্যান, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলী এবং প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গবেষণা কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ অংশ নেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি এবং বারিধারা সোসাইটির সভাপতিগণ।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও যানজট নিরসনে সিটি করপোরেশন, রাজউক ও সোসাইটিগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরো বাড়াতে হবে।’ স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে লেকগুলোতে সম্পূর্ণভাবে সুয়ারেজ লাইন বন্ধ করার তাগিদ দেন তিনি। একই সঙ্গে শহরের নির্ধারিত কিছু পয়েন্টে প্রাণীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা রাখার মানবিক পরামর্শও দেন তিনি।

সভায় রাজউকের সংশোধিত আইন অনুযায়ী ভবন নির্মাণে সেপটিক ট্যাংক ও সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপনের বাধ্যবাধকতা কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুরনো ভবনে ছয় মাসের মধ্যে সেপটিক ট্যাংক এবং দুই বছরের মধ্যে এসটিপি স্থাপনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন ভবনের ক্ষেত্রে রাজউক অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী এসব ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ঢাকার লেকগুলোকে আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে ওয়াটার বাস চালু, ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং বিভিন্ন সৌন্দর্যবর্ধনমূলক কার্যক্রম গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর যানজট হ্রাসের পাশাপাশি নগর পরিবেশেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

সভায় রাজউক চেয়ারম্যান, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।—বাসস

এএইচ