ব্যবসা সহজীকরণ ও সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

গোলটেবিল আলোচনায় অর্থমন্ত্রী ও অন্যান্যরা
অর্থনীতি
দেশে এখন
0

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক জটিলতা কমানো, সরকারি সেবায় ডিজিটালাইজেশন জোরদার এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক করার পরিকল্পনা করছে সরকার।

গতকাল (বুধবার, ৩ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে একটি সীমিত গোষ্ঠীর আধিপত্য এবং অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার কারণে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে ডিরেগুলেশন বা অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে দেশের অর্থনীতি একটি “পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক অর্থনীতি” বা পেট্রোনাইজড ইকোনমিতে পরিণত হয়েছিল। এর ফলে বিধিনিষেধ ও নিয়ন্ত্রণের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কিন্তু এসব বিধিনিষেধ অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ উদ্যোক্তাদের জন্য প্রযোজ্য হলেও প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো সেগুলোর বাইরে থেকে যায়। এতে ব্যবসার ক্ষেত্রে সমান সুযোগের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ সকল মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব স্তরে পৌঁছে দেয়া।’

তিনি আরও বলেন, দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য কামার-কুমার, তাঁতি, কারুশিল্পী ও ক্ষুদ্র উৎপাদক প্রজন্মের পর প্রজন্ম কাজ করে গেলেও তাদের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। কারণ তারা কখনোই কার্যকর নীতি সহায়তা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বা বাজার সুবিধার আওতায় আসতে পারেননি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এসব উদ্যোক্তাদের জন্য রাজধানীর কাছে প্রায় ১৬০ একর জমির ওপর একটি ‘ক্রিয়েটিভ ডিস্ট্রিক্ট’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে সরকার।’

আরও পড়ুন:

তিনি বলেন, ‘সরকার এসব উদ্যোক্তাকে সহজ ঋণ, কাঁচামাল সহায়তা, ডিজাইন উন্নয়ন, ব্র্যান্ডিং, বিপণন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ প্রদানের পরিকল্পনা করছে।’

অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশিয় কারুশিল্প ও সৃজনশীল পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির সুযোগও সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান তিনি।

আমির খসরু বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে “ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট” মডেল সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। বাংলাদেশেও স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষায়িত পণ্য উৎপাদন ও বিপণনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘একজন উদ্যোক্তা এক জায়গায় আবেদন করলেই সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। লাইসেন্স ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ করার ব্যবস্থাও নেয়া হবে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ডিরেগুলেশন, ডিজিটালাইজেশন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক নীতির মাধ্যমে এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে, যেখানে দেশের প্রত্যেক নাগরিক সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে এবং উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাড-হক কমিটির সদস্য ও বিএনপির পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু।

এসএইচ