আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে কর্তৃপক্ষ

আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
স্বাস্থ্য
দেশে এখন
0

আদ্‌ দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় আজ (শুক্রবার, ১২ জুন) নতুন কোনো রোগী ভর্তি নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে হাসপাতাল ছাড়তে শুরু করেছে রোগীরা। চিকিৎসকরা বলছেন, যেসব রোগী সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন, তাদের দ্রুত অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা চিকিৎসা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাইসেন্স বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে তারা আইনি পদক্ষেপ নেবে।

শিশু ওয়ার্ডের বেডে শুয়ে আছে জারিফ, মাজেহার, ইব্রাহিম। কারও বয়স তিন মাস, কারও এক বছর, কারও বা একটু বেশি। নেবুলাইজার চলছে, চিকিৎসা চলছে, এসবের আতঙ্কেরই সমাধান খুঁজছেন তাদের অভিভাবকরা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, আদ দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের পর শুক্রবার নতুন কোনো রোগী ভর্তি নেয়নি, বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে চিকিৎসার আশায় এসে অনেককেই ফিরে যেতে হয়েছে। একই সঙ্গে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভর্তি রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশনা থাকায় স্বজনদের মধ্যেও উদ্বেগ। অনেক পরিবারকে এরই মধ্যে হাসপাতাল ছাড়ার প্রস্তুতিও নিতে দেখা গেছে।

রোগীর একজন স্বজন বলেন, ‘চলে যাওয়ার কথা বলছিল। কিন্তু আমরা যাই নাই যে যাবো কেমনে? এটা তো অনেকটাই মানে সিরিয়াস অবস্থা, যাবো কেমনে?’

রোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, বিকল্প হাসপাতালে ভর্তির বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো সমন্বিত সহায়তা তারা পাননি। অন্যদিকে সরকারি হাসপাতালে শয্যা ও আইসিইউ সংকট, আর বেসরকারি হাসপাতালে উচ্চ চিকিৎসা ব্যয় তাদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা আপাতত চালিয়ে যাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

রোগীর একজন স্বজন বলেন, ‘তারা বলছে যে ট্রিটমেন্ট চলবে। কোন জায়গায় যাবো? যাওয়ার মতো আমাদের তো সমস্যা।’

এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাইসেন্স বাতিলের বিরুদ্ধে তারা আইনি পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসা বন্ধ করা সম্ভব নয় বলেও জানায় তারা।

আদ-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালক মো. তরিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, ‘সরকারের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমরা আপিল করবো। আমরা আশা করবো জনগণের কথা বিবেচনা করে সরকার জনস্বার্থে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান রাখবেন। আমাদের সেই অনুমতি দেবেন। এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে রোগীদের যে স্থানান্তরিত করতে বলা হয়েছে, রোগীদের জন্য কোনো প্রকার ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে আমরা খেয়াল রাখছি।’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ভবনের প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করতে বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় তিন মাসের মধ্যে রেনোভেশনের কাজ শেষ করা হবে।

জেআর