জুনে রপ্তানি আয় বেড়েছে ২৫.৯১ শতাংশ

চট্টগ্রাম বন্দরে অপেক্ষমাণ জাহাজ
অর্থনীতি
দেশে এখন
0

চলতি বছরের জুন মাসে দেশের পণ্য রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ দশমিক ৯১ শতাংশ বেড়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশল পণ্য এবং কৃষিপণ্যের রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির কারণে এ সাফল্য এসেছে।

রপ্তানি পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের জুন মাসে পণ্যখাতের রপ্তানি থেকে ৪২০২ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্জিত হয়েছে, যা গত বছরের জুন মাসে ছিলো ৩৩৩৭ দশমিক ৯২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) মোট রপ্তানি আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৮০০১ দশমিক ৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তৈরি পোশাক খাতে এ বছর আগের বছরের তুলনায় ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ বছরের জুনে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ৩৩৮৭ দশমিক ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা গত বছরের জুনে ছিলো ২৭৮৭ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

একই সময়ে নিটওয়্যার পণ্যের রপ্তানি ১৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি ২৪ দশমিক ০২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাত থেকে মোট রপ্তানি আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৮৭০১ দশমিক ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বিশ্ব পোশাক বাজারে বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থান নির্দেশ করে।

অন্যান্য খাতের মধ্যে জুন মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৪৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ। পুরো অর্থবছরে এ খাতের রপ্তানি আয় হয়েছে ১২৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।

আরও পড়ুন:

একই সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি জুনে বেড়েছে ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থবছরজুড়ে এ খাতের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৮৮ কোটি ৩৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি।

হোম টেক্সটাইল খাতে জুনে রপ্তানি বেড়েছে ৫৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং পুরো অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ। প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি জুনে বেড়েছে ৪৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং অর্থবছরে ২১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এছাড়া কৃষিপণ্যের রপ্তানিও জুন মাসে ৪৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশভিত্তিক বাজারের মধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি গন্তব্য ছিলো যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ৯০৫ কোটি ডলারের পণ্য, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার হিসেবে যথাক্রমে জার্মানি ও যুক্তরাজ্য তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। জুন মাসে বাংলাদেশের শীর্ষ ২০টি রপ্তানি গন্তব্যেই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

ইপিবি আশা করছে, রপ্তানি পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আরও শক্তিশালী হবে এবং তা দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

এফএস