আজ জোহরের পর অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের জানাজা

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক
দেশে এখন
0

প্রখ্যাত লেখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মারা গেছেন। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত্যু হয় বিশিষ্ট এই রাষ্ট্রচিন্তকের। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে পেয়েছেন বাংলা অ্যাকাডেমি পুরষ্কার। বিভিন্ন বিষয়ে ২১টির বেশি বই লিখে গেছেন গুণী এই লেখক। সর্বস্তরের শ্রদ্ধার জন্য আজ (সোমবার, ৬ জুলাই) বাংলা অ্যাকাডেমি, কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ও অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে নেয়া হবে মরদেহ। এরপর বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হবে জানাজা।

স্বপ্ন ছিল সংস্কৃতিমনস্ক, মানবিক ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশের। সেই স্বপ্নের কথাই বলে গেছেন জীবনভর। অতঃপর নিয়মের অমোঘ টানে যাত্রা করলেন অসীমের পানে।

আবুল কাসেম ফজলুল হক। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিশিষ্ট গবেষক, প্রাবন্ধিক এবং প্রগতিশীল এ রাষ্ট্র-চিন্তাবিদের প্রয়াণে অপূরণীয় ক্ষতি হলো মননশীল ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার জগতে।

তাই তো মৃত্যুর পরই বাড়িতে ভিড় জমান বিশিষ্টজন, ভক্ত, অনুরাগী ও স্বজনরা। স্মৃতিচারণায় তুলে ধরেন তাঁর রেখে যাওয়া বর্ণাঢ্য জীবনকে।

১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জন্ম নেয়া কর্মযোগী মানুষটি উচ্চশিক্ষা শেষে ব্রত হিসেবে বেছে নেন শিক্ষকতাকে। দীর্ঘ চার দশক ধরে অধ্যাপনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে।

সমাজ সংস্কারের লক্ষ্যে দীর্ঘ চার দশক ধরে সম্পাদনা করেছেন মননশীল পত্রিকা 'লোকায়ত'। 'কালের যাত্রার ধ্বনি' কিংবা 'আশা-আকাঙ্ক্ষার সমর্থন' এর মতো একুশটিরও বেশি গ্রন্থের মাধ্যমে সৎ চিন্তা উসকে দিয়েছেন এই রাষ্ট্র-চিন্তাবিদ। সর্বস্তরে বাংলা ভাষা নিশ্চিতে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

গবেষণা ও সাহিত্যচর্চায় বিশেষ অবদান রাখায় ১৯৮১ সালে পান অ্যাকাডেমি সাহিত্য পুরস্কার। ২০২৪ সালে বাংলা অ্যাকাডেমি সভাপতি দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

গুণী এই লেখকের বিদায়ে গভীর শোকে স্তব্ধ শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গন।

ইএ