এর আগে, দেশের ইতিহাসে প্রথমবার রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। ২০০২ সালের ২১ জুন তিনি রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়েন। তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপির সঙ্গে ‘রাজনৈতিক টানাপোড়েনের’ পর তিনি পদত্যাগ করেন।
বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগ
২০০১ সালের নভেম্বরে দেশের ১৭তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব এবং দলটির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তবে দায়িত্ব নেয়ার মাত্র সাত মাসের মাথায় ২০০২ সালের জুনে তাকে ঘিরে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়। বিএনপির সংসদীয় দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হলে দলীয় চাপের মুখে তিনি পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পর তৎকালীন জাতীয় সংসদের স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ
দীর্ঘ ২৪ বছর পর আবারও দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে পদত্যাগের ঘটনা ঘটলো। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. সাহাবুদ্দিন।
পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা এবং Autonomic Neuropathy রোগের কারণে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে জাতীয় সংসদের স্পিকার অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর নির্ধারিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। এর আগে, ২০০২ সালে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পরও তৎকালীন স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে দ্বিতীয়বারের মতো এমন সাংবিধানিক পরিবর্তন এলো।





