প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের তিন হাজারেরও বেশি সেমিকন্ডাক্টর পেশাজীবী বর্তমানে আমেরিকা, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর এবং ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানি, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, তারা তাদের যোগ্যতার প্রমাণ রেখে চলেছেন।’
তিনি বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট, গবেষক, ম্যানেজার, উদ্যোক্তা হিসেবে অবদানও তারা রাখছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রবাসে বিশ্বস্বীকৃত এসব মেধাবীদেরকে বাংলাদেশের সমৃদ্ধির পথে আরও গভীরভাবে যুক্ত করার ব্যাপারে সরকারি-বেসরকারি পর্যায় থেকে উদ্যোগ নেয়া অত্যন্ত জরুরি।’
তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ এরইমধ্যে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, ভেরিফিকেশন, ট্রেনিং, এম্বেডেড সিস্টেম, পাওয়ার ইলেকট্রনিক্স এবং এডভান্স প্যাকেজিং—এই সব ক্ষেত্রে কাজ শুরু হয়েছে। দেশের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এরমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রবেশ করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘সেমিকন্ডাক্টর খাতকে সরকার একটি জাতীয় অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত হিসেবে আমরা বিবেচনা করছি, বর্তমান সরকার। তবে এই খাতের উন্নয়নে খুব সম্ভবত একক কোনো মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়।’
আরও পড়ুন:
সেমিকন্ডাক্টর খাত একটি সম্মিলিত জাতীয় মিশন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘এটা একটা সম্মিলিত জাতীয় মিশন। এই মিশনের দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়। একইসঙ্গে আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত, উদ্যোক্তা এবং প্রবাসী বিশেষজ্ঞ—সবার আমাদের এই দায়িত্ব।’
তিনি বলেন, ‘সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য বর্তমান সরকার, বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে এগিয়ে নিতে চলতি বাজেটে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের চাহিদা অনুযায়ী, এই সেক্টরে যারা ইনভলভ আছেন তারা আমাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, তাদের প্রতি সম্মান রেখে এবং এই সেক্টরটাকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য আমরা চেষ্টা করেছি এই সেক্টরকে কীভাবে সামনে এগিয়ে নেয়া যায়, তার জন্য আমরা কতগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি, বিশেষ করে এই বাজেটে।’
সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের কাঁচামালের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘সেমিকন্ডাক্টর শিল্প তৈরির সব কাঁচামালের ওপরে সব ধরনের ট্যাক্স বা শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সার্ভিসের রপ্তানি আয়ের ওপরে নগদ ইনসেন্টিভ বা প্রণোদনা চালুর উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।’
আরও পড়ুন:
স্টার্টআপ অনুদানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একইসঙ্গে নতুন উদ্যোক্তা, উদ্ভাবন বাস্তবায়নের জন্য সরকার প্রথমবারের মতো বছরে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ অনুদানও রেখেছে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘এরইমধ্যে এই প্রক্রিয়াটি শুরুও হয়েছে এবং এই স্টার্টআপের যে অনুদান, সেটি আমরা চেষ্টা করেছি সঠিকভাবে, যতটুকু সম্ভব সঠিকভাবে আমরা বিভিন্নজনকে উৎসাহিত করার জন্য সেটি তাদের হাতে পৌঁছেও দেয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার এরইমধ্যে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য ব্যবসাবান্ধব তৈরিতে, পরিবেশ তৈরিতে সর্বাত্মক পরিকল্পনার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিনিয়োগবান্ধব নীতি, কর সুবিধা, বন্ডেড সুবিধা প্রদান এবং বিশেষায়িত অবকাঠামো নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছে কাজ করার জন্য।’
হাই-টেক পার্কের পাশাপাশি বায়োটেক পার্ক নির্মাণে পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যমান যেসব হাই-টেক পার্ক আছে, এগুলোকে আধুনিকায়নের পাশাপাশি একটি বায়োটেক পার্ক নির্মাণেরও পরিকল্পনা আমরা করছি।’
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘যারা বাংলাদেশে সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত আছেন, আপনারা সম্প্রতি মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া এবং আমেরিকায় রোড শো আয়োজন করেছেন। বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টরের সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আপনারা তুলে ধরেছেন। নিঃসন্দেহে এটি একটি প্রশংসনীয় বিষয়।’
তবে এক্ষেত্রে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও অবহিত করেছেন সরকারপ্রধান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে নিঃসন্দেহে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ আছে। দক্ষতার হয়তো বা ঘাটতিও আছে ক্ষেত্রবিশেষে। ল্যাবের সীমাবদ্ধতা তো আছেই, বিনিয়োগেরও হয়তো সীমাবদ্ধতা আছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কঠিন প্রতিযোগিতাও রয়েছে। তবে সব সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছায় কিন্তু আমাদের রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এতটুকু আপনাদেরকে বলতে চাই আমার সরকারের অবস্থান থেকে, আপনাদের সেই অদম্য ইচ্ছাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়ার জন্য সাধ্য এবং সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে, ইনশা আল্লাহ বর্তমান সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে এবং থাকবে।’
আরও পড়ুন:
পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বাংলাদেশের নতুন বিনিয়োগ খাত হতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘সীমাবদ্ধতা, প্রতিকূলতা এবং নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে কৃষি, পোশাকশিল্প, প্রবাসী আয় এবং ডিজিটাল সেবায় সফলতা দেখিয়েছে। আমাদের মেধাবী তারুণ্য, দক্ষ এবং উদ্যমী জনশক্তির উদ্ভাবনী শক্তির ওপরে ভর করে পোশাকশিল্পের পরে—যেটি আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—পোশাকশিল্পের পরে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের জন্য আরেকটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক মূল গন্তব্য।’
তিনি বলেন, ‘এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পখাত, প্রবাসী পেশাজীবী এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য বিনীত আহ্বান জানাই।’





