সরকারি ঘোষণা ছাড়াই সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত বাংলাদেশিদের ভিসা অটো বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এমন ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শ্রমবাজারে লাখ লাখ প্রবাসীর মাঝে ভিসা বাতিলের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ছুটিতে থাকা অনেকে কর্মস্থলে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে গিয়ে জানতে পারছেন তাদের ভিসা বাতিলের কথা। প্রবাসীরা জানান, তাদের কাছে কোম্পানিরও সবকিছু ঠিক থাকার পরও ভিসা বাতিল হয়ে যাচ্ছে।
দেশটির বিদ্যমান আইনে নিয়োগকর্তা চাকরি শেষ হওয়ার পর ভিসা বাতিল করে দিতে পারেন, কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাওয়া বা লাইসেন্স বাতিল হয়ে গেলেও কর্মীদের ভিসা বাতিল হয়ে যায়। কর্মীর বিরুদ্ধে অননুমোদিতভাবে কর্মস্থল ত্যাগ, শ্রম আদালতে বিরোধ বা আইনি জটিলতা, কর্মীর অজান্তে স্পন্সর পরিবর্তন, দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করার কারণেও ভিসা বাতিল হতে পারে।
তবে শত শত কর্মীর ভিসা বাতিল হয়ে যাচ্ছে সেই সম্পর্কে পুরোপুরি অন্ধকারে রয়েছেন প্রবাসীরা। দেশটিতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ও কনসাল জেনারেলের কাছেও নেই যথাযথ উত্তর।
আরও পড়ুন
দুবাই বাংলাদেশ কনস্যুলেটর কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান বলেন, ‘আমার সঙ্গে কথা বলে কিছু হবে না। তা রাষ্ট্রদূত বলতে পারবেন।’
এদিকে কর্মীদের ভিসা বাতিলের ঘটনায় দেশটির সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আগামীকাল (সোমবার, ২৭ জুলাই) আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন বলে জানান প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী। বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আরব আমিরাতে শুধু বাংলাদেশের বিষয় না, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল এবং অন্যান্য দেশেও। কি কারণে তাদের এ আদেশ দিয়েছেন সেটার জন্য আমি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলার পরে উনি অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়েছেন। আগামীকাল উনি ওই দেশের হিউম্যান রিসোর্স মিনিস্ট্রির লগে দেখা করবেন। আর আমরা মনে করছি আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় দেশে আসলে কূটনৈতিক চ্যানেলেও আমরা এটা দেখব।’
প্রবাসীদের ভিসা কার্যকর আছে কি না আইসিপি বা জিডিআরএফএ সিস্টেমে গিয়ে নিজের ভিসার বর্তমান অবস্থা যাচাই করার সুযোগ রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।





