৬০ ফিটের ময়লার ভাগাড় সরাতে সিদ্ধান্ত: খালের ওপর তৈরি হচ্ছে আধুনিক এসটিএস

রাস্তার পাশেই ময়লার ভাগাড়
দেশে এখন
0

ঢাকার নামের সঙ্গে এঁটে আছে তিলোত্তমা বিশেষণ। কিন্তু রাজধানী ঢাকা কি সেই ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখতে পেরেছে? বরং ঢাকা এখন অপরিচ্ছন্ন-দূষিত নগরীর দোষে দুষ্ট। ঢাকার সেবাদানকারী সংস্থাগুলো বলছে, সরকারের পাশাপাশি নিজ শহর পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নিতে হবে নগরবাসীকে।

রাজধানী কতোটা পরিচ্ছন্ন? তা নিজ চোখে দেখে নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল (শুক্রবার, ৮ আগস্ট) নগর দেখতে বের হোন। তিনি ঘুরে দেখেন উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ড। এর আগে ঢাকা দক্ষিণের ওয়ার্ড ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতাও ছিল প্রধানমন্ত্রীর।

প্রধানমন্ত্রী শহর ঘুরে দেখার পর পরিচ্ছন্নতা-কর্মীদের দ্বিগুণ কাজ করতে হচ্ছে। এমনটা জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ২৬ বছর ধরে কাজ করা মনির হোসেন নামের এক পরিচ্ছন্নকর্মী।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী মনির হোসেন বলেন, আগে শুধু সকালে কাজ করতাম । এখন বিকেলেও করা লাগে। আবার পরিশ্রমও বেড়ে গেছে। রাস্তাও সুন্দর হয়েছে, সব জায়গা পরিষ্কার।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬০ ফিট এলাকায় রাস্তার উপর ময়লার ভাগার দেখা যায়। পথচারীরা নাক চেপে যাতায়াত করেন।

এসএসসি পরীক্ষার্থী ইউসা রহমান সদ্য বলেন, এইখানে একটি উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। এখানে শিক্ষার্থীরা অনেক সময় যদি যানবাহন না পেয়ে থাকে তারা হেঁটেও যাতায়াত করে। ফলে তাদের একটি স্বাস্থ্য-ঝুঁকির একটি অবস্থা হয়ে থাকে। কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবো এবং আজকাল দেখি যে নিউজ না হলে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না।

স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন অভিযোগ করে জানান, ময়লার ভাগার সরানোর জন্য সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের কাছে একাধিকবার ধর্না ধরেও কোন সমাধান পাননি।

স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, এখান থেকে ময়লা ফেলার জন্য অনেক রিকোয়েস্ট করেছি, দরখাস্ত দিয়েছি, হেড অফিসে গিয়েছি, কিন্তু আমাদের কোনো কর্ণপাত করছে না। বলছে আজকেও না, দুই মাস সময় দেন। আবার বলে যে এক মাস সময় দেন, একটু সময় দেন আমরা এটা সরিয়ে নেব। কিন্তু কোনো কার্যকারী কোনো কিছুই হচ্ছে না।

অভিযোগ নাকচ করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে একাধিকবার মিটিং করা হয়েছে। তারা ময়লা ফেলার জায়গা না দেওয়ায় পাশে খালের ওপর দোতলা সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন নির্মাণ করে ময়লা ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, যেহেতু এলাকাবাসী কোনো জায়গা দিতে চায় না, আর মিরপুরের ৬০ ফিটের আশেপাশে আপনারা নিজেরাই জানেন অনেক ঘনবসতির জায়গা, ওখানে কোনো সরকারি খাস জমিও তেমন একটা পাওয়া যায় না। বিধায় আপাতত খালের উপরে আমরা এলিভেটেড করে একটা ব্রিজের মতো করে সেখানে একটা আরসিসি দিয়ে পাইলিং করে আমরা একটা এসটিএস নির্মাণ করব। সেটা ইনশাআল্লাহ আশা করছি খুব দ্রুত, যেহেতু বৃহস্পতিবার দিন গিয়েছি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ছিলেন, তারাও এটাকে অ্যাপ্রিশিয়েট করেছে, ওখানে করবে। এখন থেকে আর রাস্তাঘাটে আপনারা দেখতে পারবেন না।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বলেন, সরকারপ্রধানের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখব।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, এটা আমরা পজিটিভলি দেখছি। কারণ একটা সরকার প্রধান যখন যে বিষয়টার উপরে জোর দেন, স্বাভাবিকভাবে সেটা খুব ইফেক্টিভলি কাজ হয়। ঢাকা শহরে এই অবস্থা ছিল না, আপনারাই সেটার সাক্ষী। একটা অথর্ব একটা পড়েছিল আর কি এমন। তা আজকে সেটাকে গতিশীল করে অন্তত জনগণের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার বা জনগণের যে সমস্ত চাহিদা আছে সেগুলো মিটানোর জন্য আমরা ক্রমশ পুরোপুরি হয়তো আমরা মিটাতে পারছি না, কিন্তু চেষ্টা করে যাচ্ছি। কাজেই এই চেষ্টাটার পেছনে কাজ করছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অপরিচ্ছন্ন ঢাকার ময়লা-আবর্জনা অপসারণে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের আশেপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সচেতন হই। দেশটা তো আমাদের সকলের। সকলে মিলে ছোট ছোট প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আমরা দেশের জন্য বড় কিছু করতে সক্ষম হবো।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমরা যদি নিজেরা সচেতন হই, যত্রতত্র যদি আমাদের ব্যবহারকৃত আবর্জনাগুলো যদি যত্রতত্র আমরা না ফেলে দেই, আমরা যদি একটি নির্দিষ্ট জায়গায় এই আবর্জনাকে জমা করি এবং নির্দিষ্ট উপায়ে যদি এটাকে পরে ধ্বংস করি, তাহলে যেমন আমাদের পরিবেশটি ভালো থাকবে, ঠিক একইভাবে আমরা আমাদের পরিবেশটাকে সুন্দরভাবে রাখতে পারবো।

দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবেসে ক্ষুদ্র হলেও দেশের জন্য ভালো এমন কাজ করতে বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ইএ