পরিবার সূত্রে জানা যায়, ১০ জুলাই মহররমের ছুটিতে বাবা-মায়ের সঙ্গে অরঙ্গবাদ গ্রামে দাদার বাড়িতে বেড়াতে আসে আদনান। এর ১৩ দিন পর ২৩ জুলাই সকাল ৯টার দিকে মায়ের সঙ্গে বাড়িতে থাকা অবস্থায় নিখোঁজ হয় সে।
শিশুটির বাবা অভি হোসেন জানান, ঘটনার সময় আদনান তার মায়ের সঙ্গেই ছিল। মা খাবার আনতে ঘরে গেলে শিশুটি খেলতে খেলতে উঠানে আসে। একপর্যায়ে বাড়ির গেটের বাইরে চলে যায়। কয়েক মিনিট পর মা ফিরে এসে তাকে আর দেখতে পাননি। এরপর পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজ শুরু করেন।
অভি হোসেন বলেন, ‘আমার সঙ্গে কারও শত্রুতা নেই। কাউকে সন্দেহও করতে পারছি না। তবে বাড়ির সামনের নদীর ঘাটে একজন ব্যক্তি ওই সময় একটি অটোরিকশায় বোরকা পরা তিন নারীকে যেতে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। তবে তাদের সঙ্গে কোনো শিশু ছিল কি না, তিনি নিশ্চিত নন।’
এদিকে একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অভি হোসেন ও তোহরা ইসলাম দম্পতি। দিনের পর দিন সন্তানের অপেক্ষায় কাটছে তাদের সময়। সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় এখনো বুক বেঁধে আছেন তারা। তবে দীর্ঘ সময়েও কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
পরিবারের অভিযোগ— শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না। যদিও পুলিশ বলছে, তারা বিভিন্নভাবে শিশুটির সন্ধানের চেষ্টা করছে।
আরও পড়ুন:
দোহার পুলিশ ফাঁড়িতে ঘটনার পর একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে শিশুটি নদীতে পড়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী নৌকা দিয়ে আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হলেও শিশুটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি আশপাশের থানাগুলোতেও নিখোঁজ শিশুটির বিষয়ে জানানো হয়েছে।
সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ না থাকায় শিশুটির সন্ধান পেতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে বলেও জানান তদন্ত কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘বাড়ি থেকে দূরের কয়েকটি স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হয়েছে। ফুটেজগুলো ডাউনলোড করে সংগ্রহের জন্য পরিবারকে বলা হয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফুর রহমান বলেন, ‘দোহার পুলিশ ফাঁড়িতে কম্পিউটার অপারেটর না থাকায় ফুটেজ সংগ্রহে পরিবারের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।’
অন্যদিকে শিশুটির বাবা জানান, সর্বশেষ দুইবার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সন্তানের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি জানতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে সন্তানের সন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ কামনা করছেন তিনি।
আদনানের সন্ধান পেলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছে তার স্বজনরা। যোগাযোগ: ০১৯৮৭৮৮২৫৭৫।





