গ্যাস নিয়ে ভোগান্তিতে পড়া রাজধানীর বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও গ্যাস মিললেও চাপ এত কম যে স্বাভাবিকভাবে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না।
ফিলিং স্টেশনগুলোতেও সংকট আরও প্রকট। দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গাড়িতে গ্যাস নেয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকছেন চালকরা। চাপ কম থাকায় অনেক স্টেশনে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কম গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। ফলে অপেক্ষা করেও গ্যাস না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে অনেককে।
স্টেশন-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় প্রতিদিনই লোকসান গুনতে হচ্ছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়ছেন মালিকরাও।
সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজিচালিত গণপরিবহনেও। ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ অপেক্ষায় চালকদের কর্মঘণ্টার বড় একটি অংশ নষ্ট হচ্ছে। গ্যাস না পেলে কমে যাচ্ছে দৈনিক আয়ও।
সিএনজিচালকরা বলছেন, মালিককে প্রতিদিন নির্ধারিত টাকা জমা দিতে হয়। কিন্তু ১২ ঘণ্টা গাড়ি চালানোর সময়ের মধ্যে প্রায় ৬ ঘণ্টাই গ্যাস নেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
শুধু পরিবহন খাতেই নয়, গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর বাসাবাড়িতেও। কোথাও ভোরে, কোথাও গভীর রাতে সামান্য চাপ পাওয়া গেলেও দিনের বেশির ভাগ সময় চুলা জ্বলছে না। ফলে বাধ্য হয়ে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে। এতে বাড়ছে বাড়তি খরচ।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্যাস না পেলেও নিয়মিত মাসিক বিল দিতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংকট চললেও কার্যকর সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে তাদের মধ্যে।
সপ্তাহের শুরুতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও সোমবার থেকে আবারও গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বঙ্গোপসাগরে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।
ফলে রাজধানীতে আবারও গ্যাসের সংকট তীব্র হওয়ায় একদিকে রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ অপেক্ষায় ভোগান্তিতে পড়ছেন পরিবহন শ্রমিকরা। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।





